ঈদ উৎসবেও উপজেলার উত্তাপ

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৩ এএম

ঈদের পর রাজনীতির হাওয়া ঘুরে যাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিকে। মে মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এ নির্বাচন মাথায় রেখেই এবার ঈদে নিজের এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। অনেক নেতা এলাকায় অবস্থান করছেন, অনেকেই ঈদের আগের দিন বা পরদিন যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত না নিলেও দলের স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা প্রার্থী হচ্ছেন। মাঠেও তাদের ইফতার ও ঈদকেন্দ্রিক কর্মকান্ড দেখা যাচ্ছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাওয়ার আগেই ছক তৈরি করে রাখছেন বেশিরভাগ নেতাই। সংসদ সদস্য (এমপি), কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও উপজেলা নির্বাচন মাথায় রেখে নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবার মাথায় এখন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলটির কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পদে থাকা একাধিক নেতার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত কোনে না কোনো ‘ফরম্যাটে’ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা উপজেলা নির্বাচনে যুক্ত হয়ে পড়বেন। উপজেলা নির্বাচন দলীয় প্রলেপ লাগিয়ে দেবেন।

যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন উন্মুক্ত। যেকোনো আগ্রহী নেতা নির্বাচন করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত মাঠের চিত্র বলছে, দলের বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন এক ধরনের দলীয় হয়ে যাওয়ার পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে। প্রত্যেক জেলা-উপজেলার এমপিরা পছন্দের প্রার্থী নিয়েই কাজ করছেন। এবারের ঈদে সেটি আরও প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতারা।

অন্তত ছয়টি জেলা ও উপজেলার নেতার সঙ্গে ঈদ-রাজনীতি নিয়ে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। তারা সবাই বলেন, উপজেলা নির্বাচন ঘিরেই ব্যস্ত তারা। দলীয় নেতা যারা নির্বাচন করবেন, তারা পুরো রমজান মাস জুড়ে ইফতার আয়োজন করা ও ইফতারে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী রাজনীতি শেষ করে এনেছেন। ঈদে স্থানীয় এমপিরা এলাকায় এসে স্থানীয় নির্বাচন রাজনীতি চাঙ্গা করে তুলবেন। জানা গেছে, নতুন যেসব এমপি এবার নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বেশিরভাগ তাল বোঝার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার চেষ্টা করা হলেও সরাসরি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না।

আগামী ৮, ২৩ ও ২৯ মে এবং ৫ জুন চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। প্রথম ধাপে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল, বাছাই ১৭ এপ্রিল, প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। ভোট হবে ৮ মে। এ ধাপে ভোট হবে ১৫২ উপজেলায়।

এসব উপজেলা ইতিমধ্যে ভোটের হাওয়ায় চাঙ্গা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ‘মাইম্যান’ নিয়ে বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ নেতা মাঠে নেমেছেন। ঈদে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা, দলীয় এমপি ও জেলা-উপজেলার প্রভাবশালী নেতারা পক্ষ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। এ নির্বাচন কেন্দ্র করে কোনো কোনো স্থানে মারামারি, অত্যাচার-নির্যাতনও শুরু হয়েছে। দলের বিভিন্ন পক্ষ এ অরাজনৈতিক কর্মকা- করছেন। সেখানে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছেন দলের প্রভাবশালী নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক বিশেষ কৌশলে এবার উপজেলা নির্বাচন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক এ কৌশলের বিপরীতমুখী কোনো কর্মকাণ্ড কোনো নেতা করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ঈদে কেন্দ্রীয় নেতারা বাড়ি গেলে উপজেলা নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠবেই। তবে এ নিয়ে নেতাদের কোনো পক্ষে অবস্থান থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব নেতাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা-সহিংসতার শঙ্কা : চার ধাপে দেশের ৪৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শেষ হবে জুনে। এরই মধ্যে দুই ধাপের ভোটের তফসিলও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই ভোট এবার দলীয় প্রতীকে না করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতারা একক প্রার্থী সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছেন। গত ৩১ মার্চ ও চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রংপুর, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় তারা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দলের একাধিক প্রার্থী থাকলে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা হবে। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উল্টো মন্ত্রী-এমপিদের হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মতবিনিময়ের পর ওবায়দুল কাদের সাংগঠনিকভাবে কঠোর বার্তা দিয়ে বিবৃতিও দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর অন্তত ছয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় নেতাদের জন্য উন্মুক্ত থাকার পরও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে ভোটে দলের প্রভাবশালী নেতাদের জড়িয়ে পড়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

নেতাদের মতে, শঙ্কার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাচনে নিজের অনুসারী বা কাছের প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় এমপিদের হস্তক্ষেপ, আগের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা জয়ী হওয়ার পর এবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যাওয়াদের আবার প্রার্থী হওয়া, স্বতন্ত্র হিসেবে সবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভেতরে নানা গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, ত্যাগী নেতাদের বিপরীতে টাকাওয়ালা বা পেশিশক্তিওয়ালা নেতাদের দৌরাত্ম্য, স্থানীয় বিভিন্ন গ্রুপগুলোর নির্বাচনে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা, ভোটের প্রচার-প্রচারণায় বেশি সময় পাওয়ায় সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটতে পারে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকারের আগের নির্বাচনে এসব কারণে রক্ত ঝরার তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার দলীয় প্রতীকে করা হচ্ছে না। কিন্তু তারপরও শঙ্কা কাটছে না। সে কারণে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আগেভাগেই কঠোর হয়েছে দল। এবার বিশৃঙ্খলা কিংবা সহিংসতায় জড়ালে আইনি ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী-এমপি-নেতাকর্মীদের নির্দেশ : গত ২ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দলের নির্দেশনা জানিয়ে দিয়েছেন। এত বলা হয়, উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে মন্ত্রী-এমপিদের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনও শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। কেউ কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের মতামতের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটবে এবং ভোটাররা নির্বিঘেœ নিজেদের ভোট প্রদান করবে। নির্বাচনে কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করার কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার জন্য মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীদের প্রতি সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ সবাইকে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে নিরপেক্ষ থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা : আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপি যাবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যাপারে দলটির সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা আগ্রহী। সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

দলের নেতাকর্মীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে অনেক নেতাই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। কিন্তু যাদের জয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তারা তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার দিকে। তারা ঘোষণা না দিলেও বিভিন্ন মাধ্যমে ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের অজুহাতে জনগণের কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। আবার কিছু নেতা দলের ইতিবাচক বা নেতিবাচক, যে সিদ্ধান্তই হোক না কেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে নিয়ে প্রচার কাজ করতে পারবেন। এসব সম্ভাব্য প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রচার ও ঘরোয়া সভার আয়োজনও করছেন।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এবং ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। তাই স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচনগুলোকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতে চায় সরকার। এজন্য নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের জন্য প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে। ফলে আওয়ামী লীগের যে কেউ চাইলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। নির্বাচন সবার গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে আন্তরিক আওয়ামী লীগ। ফলে সার্বিক বিবেচনায় বিএনপির নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ বহুগুণে বেড়েছে। বিএনপির মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয় নেতারাও অংশগ্রহণের সুযোগ খুঁজছেন। প্রথম ধাপে যে ১৫২টি উপজেলায় নির্বাচন হবে, সেই উপজেলাগুলোতে ইতিমধ্যে বিএনপির প্রার্থী হতে আগ্রহীরা রমজান, ঈদ ও নবর্বষকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন। উপজেলাগুলোতে ইফতার আয়োজন, এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা ও সালাম জানিয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন। কেউ কেউ সেমাই ও চিনি বিতরণ করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে বিএনপির এক সম্ভাব্য প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবাই জানেন এই ঈদের একটা আলাদা মাহাত্ম্য আছে। দলের সমর্থন পেলে অনেকেই এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়ে দেবে। দলের অনেকেই সমর্থন দিচ্ছেন।’

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দলটি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। গত ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত মুলতবি রাখা হয় এবং সভার পরবর্তী তারিখ ১ এপ্রিল নির্ধারণ করে। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ায় সেদিন দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে জুম মিটিং করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতি সপ্তাহের সোমবার সাধারণত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। তবে ঈদুল ফিতর সমাগত হওয়ার পরবর্তী বৈঠক সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি দলের নেতারা।

সারা দেশে প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ৫০ জনের মতো বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতা অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। অন্তত ১০ নেতার প্রচার চালানোর তথ্য গত মার্চে খুঁেজ পেয়েছিল দেশ রূপান্তর। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন, এবার তিনি অংশ নিতে চান। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছেন।

আমাদের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা, বুড়িচং উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক জাভেদ কাউসার সবুজ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার জাহিদুল হক, দেবিদ্বার উপজেলার বিএনপি সমর্থক মার্কিন প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তিনবারের চেয়ারম্যান (বর্তমান চেয়ারম্যান) ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ শাহজাহান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মহিবুল ইসলাম শাহিন, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দুবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি নবী নেওয়াজ খান বিপুল, বকশীগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফখরুজ্জামান মতিন প্রমুখ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘বিএনপি কখনো বলেনি তারা নির্বাচনে যাবে না, বরং আমরা বলেছি বর্তমান সরকারের অধীনে সাজানো, একতরফা, প্রহসন ও প্রতারণামূলক নির্বাচনে অংশ নেবে না। এবারের উপজেলা নির্বাচনের সঙ্গে আগের নির্বাচনের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য হবে না। তাই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই।’

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যে, এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। দলের নীতিনির্ধারকরা পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে নেবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত