গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ কিছুটা কম। ঘরমুখো মানুষের যে ঢল নেমেছিল গতকাল সোমবার সকালে থেকে সেটা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে এসেছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় গতকাল সোমবার রাতে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। যানজট পরিস্থিতি নিরসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়ক ছিল স্বাভাবিক। তবে দুপুরের পর হঠাৎ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা দেয়। অতিরিক্ত মানুষের চাপে বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দেয় যানজট। গাজীপুরের চৌরাস্তা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর-চন্দ্রা-খাড়াজোড়া এলাকা পর্যন্ত এবং কালিয়াকৈর নবীনগর সড়কের বারুইপাড়া হতে চন্দ্রা কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চন্দ্র এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল বাড়তেই থাকে। যাত্রী অনুযায়ী পরিবহনের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় অপেক্ষমান যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সুযোগ বুঝে পরিবহনে ভাড়াও তিন-চার গুণ বেশি আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুরে ছোট-বড় প্রায় আড়াই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে অধিকাংশ ছুটি হয়েছে সোমবার। দুপুর ১২ টার পর অনেক কারখানা শ্রমিকরা ছুটি পেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়। ফলে বেড়ে যায় যাত্রীদের ভিড়, দেখা দেয় যানজট। তবে সন্ধ্যা নাগাদ এই চাপ আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক পোশাক কারখানা শ্রমিক বলেন, বিকাল পাঁচটার দিকে অফিস থেকে বের হয়ে গেছি। এখন চন্দ্রা আসলাম তবে অনেক ভিড়। গাড়ি ভাড়া কয়েক গুণ বেশি। কষ্ট হলেও বাড়িতে যেতে হবে।
কারখানার শ্রমিক ইকবাল হোসেন-কল্পনা আক্তার দম্পতি বলেন, সোমবার দুপুরে ফ্যাক্টরি ছুটি হয়েছে। পরিবার নিয়ে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ রওনা হয়েছি। ঈদের সামনে যানজট ভোগান্তি একটু হবেই৷ ভালো একটা গাড়ি পেলে সমস্যা হবে না। আমার মতো এমন হাজার হাজার মানুষ এসব মাথায় নিয়েই ঈদ করতে বাড়ি যায়।
নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ওসি শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দুপুরের দিকে কারখানা ছুটি হওয়ার যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। ফলে চন্দ্রায় যানবাহনে ধীরগতি আছে। সোম ও মঙ্গলবার একটু চাপ হবেই। যাত্রাপথ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা থেকে টঙ্গী ও গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে যেসব যানবাহন ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছে সে সকল যানবাহন কোথাও কোথাও ধীরগতিতে চললেও রাস্তা রয়েছে স্বাভাবিক। সকাল থেকে তেমন কোন যানজট পরছে না।
তবে ভোগরা বাইপাস মোড় ও চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহনের চাপ রয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যান চলাচল স্বাভাবিক রাতে কাজ করেই যাচ্ছে।
অপরদিকে কালিয়াকৈর এর শরীফপুর থেকে চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সুরকে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। গতকাল সোমবারের তুলনায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে যাত্রী সংখ্যা অনেকটা কম।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘টঙ্গী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত কোন যানজট নেই তবে যাত্রীবাহী বাস এবং যাত্রীদের আধিক্যের কারণে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোন যাত্রীবাহী গণপরিবহনকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দিচ্ছে না। আশা করি যানজট মুক্ত পরিবেশে এবার ও ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।’
