রাত পেরোলে ঈদ। তবে এর
ই মধ্যে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ঈদ আনন্দকে নিজ নিজ আঙ্গিনায় আবদ্ধ করতে ব্যস্ত প্রত্যেকেই। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছে, যাদের ঈদ আছে কিন্তু আনন্দ নেই। এদের মধ্যে রয়েছে এতিম শিশুরা। কেননা, ঈদের আনন্দ নতুন জামায় নয়, নয় হাজারো মজাদার খাবারের সমারোহে।
পরিবার ছাড়া ঈদ আনন্দের সার্থকতাই বা কোথায়? এই সমাজে এতিমদের ঈদ আনন্দ অনেকটা সাদামাটা। এতিমখানার শিশুরা তাকিয়ে থাকে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার দিকে। ঈদকে ঘিরে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সহযোগিতা পায় তারা।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন পদমদী এলাকায় রয়েছে প্রতিবন্ধী এতিমখানা। সেখানে মোট ২৫ জন শিশু থাকে। যাদের কারও বাবা নেই, কারও আবার মা নেই। আবার কারও বাবা-মা কেউই নেই। একে তো এতিম, তার ওপর প্রতিবন্ধী। তাদের এ দেখার কেউ নেই। তাই ঈদও উদযাপন করে এতিমখানাতেই। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় অবস্থিত এই এতিমখানাটি।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) এই এতিমখানাটিতে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে ইবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বুনন’। খাদ্য সামগ্রী হিসেবে শিশুদের চাল, ডাল, দুধ, সেমাই, চিনি, নুডলস ও সাবান দেওয়া হয়। এসব সামগ্রী পেয়ে শিশুদের চোখে-মুখে যেন উচ্ছ্বাসের ছাপ। আপনজন না থাকার বেদনা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে।
এতিমখানার পরিচালকের বরাত দিয়ে বুননের সভাপতি নাহিদুর রহমান জানান, সেখানে ২৫ জন শিশু থাকে। এর মধ্যে ১৭ জন প্রতিবন্ধী আছে, যার মধ্যে কিছু এতিম শিশুও আছে। আর এর বাইরেও কিছু এতিম শিশু থাকে সেখানে। যাদের যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের জন্য এতিমখানাটিতেই রান্না করা হবে। ওরা সেখানেই ঈদ উদযাপন করবে।
নাহিদ বলেন, প্রতিবন্ধী ও এতিম শিশুদের ঈদের আনন্দে আমরা শরিক হতে পেরেছি। তাদের হাসির কারণ হতে পেরেছি। এটা অনেক বড় পাওয়া। সমাজের বিত্তবানরা যদি তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, তবে ঈদটা সুন্দরভাবে তারা উদযাপন করতে পারবে।
সামগ্রী বিতরণের সময় এতিমখানার পরিচালক খোন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত যে, আপনারা এই প্রতিবন্ধী এতিম শিশুদের জন্য ঈদ সামগ্রী নিয়ে এসেছেন। আপনারা এর আগেও আমাদের এভাবে সহযোগিতা করেছেন। আপনারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক এই দোয়ায় রাখি।
মুক্তিপণ যোগাড় করেও সন্তানের লাশ পেলেন মা-বাবা
ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান সৌদি বাদশাহর