‘এবার কেউ বলে না, বাবা কবে শপিং করে দিবা’

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৭ পিএম

‘প্রতি বছর ১৫ রোজার পর থেকে আমার দুই ছেলে আহনাফ ও আয়মান বায়না ধরতো ঈদের নতুন জামা কেনার জন্য। ওদের জন্য ২০ রোজার মধ্যেই শপিং করে দেওয়া লাগতো। অথচ একটা বছরে কত কিছু পরিবর্তন হয়ে গেল ভাই! আমার পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ নেই, নেই কোনো আয়োজন। এই আনন্দ আয়োজন আর কখনো আসবেও না’- এভাবেই দেশ রূপান্তরকে কথাগুলো বলছিলেন সম্প্রতি সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে নিহত শিশু আহনাফের বাবা ফখরুল আলম। 

রাজধানীর মালিবাগের  জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারে চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় আহনাফ মারা যায়।এরপর থেকে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

ফখরুল আলম বলেন, গত রোজায় আহনাফের কথাগুলো আমার এখনও কানে ভাসে। ছেলেটা ঘুম থেকে উঠেই বলতো, বাবা শপিং কবে করে দিবা? আমার এবার লাল জামা লাগবে। একটু পরপর এসে নিজের জন্য ও তার ছোট ভাই আয়মানের জন্য কি কিনবে তা বলে যেত। পরক্ষণেই এসে বলতো, বাবা মায়ের জন্য কি কিনে দিবা? এখন আমাকে কে এসব প্রশ্ন করবে ভাই?

ফখরুল আলম বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আহনাফ ও আয়মানকে নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের জামায়াত পড়তে যাইতাম। গতকাল ছোট ছেলে আয়মান এসে জানতে চায়, বাবা এবার কি আমরা বায়তুল মোকাররম জামাত পড়তে যাব? আমি ছেলেটাকে কোনো উত্তর দিতে পারিনি। হয়তোবা বাসার পাশের মসজিদে জামাত পড়বো।

ঈদের শপিং করা হয়েছে কি না এমন এক প্রশ্নে আহনাফের বাবা বলেন, আয়মানের জন্য একদিন বাজারে গিয়ে জামা কিনে দিয়েছি। আর কারও জন্য কিছু কেনা হয়নি। ওদের মা খায়কুন নাহারের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো না। সারাদিন কান্নাকাটি করছে। আমার সুখের সংসার এখন নানা অনিশ্চয়তায় ভাই।

ফখরুল আলম জানান, হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসকরা জামিনের জন্য তোড়জোড় করছেন। হয়তোবা এর মধ্যে তারা জামিন পেয়েও যাবেন। ছেলের মৃত্যুর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি জানেন না, খৎনা করার দায়িত্বে থাকারা চিকিৎসক ছিলেন নাকি ভুয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত