বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঈদের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েক দফায় সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত শতাধিক

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গত পাঁচদিনে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তুচ্ছ ঘটনায় মারামারিতে না জড়াতে পুলিশ স্থানীয়দের সচেতন করলেও তেমন কাজে আসছে না।

জানা গেছে,  গত রবিবার দুপুরে জেলার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে মোল্লাবাড়ি ও বাবুর বাড়ির দুই শিশু পুকুরে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসলে তাদের মধ্যেও বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিকেলে বিলের পাশে দুইপক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ ফের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।

একইদিনে নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ঘুজিয়াখাইল গ্রামে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খায়রুল পাঠানের গোষ্ঠির মাসুদ পাঠান কৃষি জমিতে সেচের পানির ব্যবসা করেন। জমিতে পানি দেওয়ার পর সে টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু সম্প্রতি সাবেক ইউপি সদস্য মারফত আলীর গোষ্ঠির এক ব্যক্তির জমিতে পানি দিলেও সে মাসুদকে টাকা দেয়নি। এ নিয়ে গত  শনিবার দ ’পক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয়পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সরাইল উপজেলার শাহাজাদাপুর ইউনিয়নের শাহাজাদাপুর গ্রামে একটি সরকারি জায়গায় চাষ করা ধান নিয়ে স্থানীয় রিপন গংদের সঙ্গে আরেক পক্ষ কাউছার, মাসুক ও আফজালের বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি থানায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উভয় পক্ষ সভায় বসে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও সভা হয়। উভয় সভায় সিদ্ধান্ত হয় সরকারি ওই জমির ধান দুই পক্ষের কেউ কাটতে পারবে না এবং এই ধান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে কাটা হবে। উভয় পক্ষ প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সম্মত হয়ে স্বাক্ষর করে যায়। কিন্তু সিদ্ধান্ত অমান্য করে ঈদের পরদিন শুক্রবার ভোরে ইউপি সদস্য জুয়েল, নাজমা বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুন্না, আজিজ ও ময়েজের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই জমির ধান কেটে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লুকিয়ে রাখা ধান উদ্ধার করে জব্দ করে। পরে এক পক্ষকে ধানগুলো দিয়ে দেওয়া হয়।

এরই জেরে গত শনিবার সকাল থেকে দফায় দফায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কামাল উদ্দিন নামে একজন মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কামাল উদ্দিন এলাকার শাহাদাত আলীর ছেলে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। তাদেরকে সরাইল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার প্রীতি ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা চলাকালীন দুই তরুণের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এর মধ্যে একটি পক্ষকে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল ও অপর পক্ষটিকে মো. রিপন মিয়া সমর্থন দেয়। পরে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আলোচনাও হয়।

গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে সাধুপাড়া নূরে মদিনা মসজিদে যায় আওয়াল মিয়ার পক্ষের লোকজন। নামাজ থেকে বের হওয়ার পর আওয়াল মিয়ার পক্ষের লোকদের ওপর অতর্কিত হামলা করে রিপন মিয়ার লোকজন। এ সময় বিষয়টি দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে নারীসহ দুই পক্ষের ৩০ জন আহত হয়।

সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বিশুতারা গ্রামে গত ৭ মার্চ  নিজ বাড়ির পাশে কিচ্ছালডি খালের পাড় থেকে রোকেয়া বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রোকেয়া বেগম ওই গ্রামের পশ্চিমপাড়া বড় বাড়ির আবুল কালামের স্ত্রী ছিলেন। নিহতের ছেলে মন্নাফ মিয়া বাদী হয়ে একই এলাকার ইনসান গ্রুপের ৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ মামলায় বেশ কয়েকজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বাদীপক্ষের লোকজন আসামি ধরতে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘেরাও করে। এ নিয়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন।

সংঘর্ষের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.ইকবাল হোসাইন বলেন, তুচ্ছ-তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্র থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রত্যেকটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত