বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পাবনায় ঘণ্টার ব্যবধানে ২ প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতাল সিলগালা

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৬ পিএম

পাবনার আইডিয়াল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে দুই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পরেই তদন্তে নামেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগ প্রাথমিক তদন্তে ওই হাসপাতালে নিষিদ্ধ স্যালাইন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রসূতিদের শরীরে পুশ করার প্রমাণ পেয়েছে। একই সঙ্গে নার্স দিয়ে অস্ত্রপচারসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণেই হাসপাতালটিতে রোগীদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব অভিযোগে তাৎক্ষণিক হাসপাতালটিকে সিলগালা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ওই হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাবনার সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান।
 
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার খিদিরপুরের স্বপ্না খাতুন ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহ গ্রামের মাহবুব বিশ্বাসের স্ত্রী ইনসানা খাতুন ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন  বিকেল পৌনে ৪ টায় ডা. লিপি খাতুন প্রসূতি স্বপ্না খাতুনের সিজার করেন। ওদিকে বিকেল ৫ টার দিকে ডা. লিজা খাতুন ইনছানা খাতুনের অপারেশন করেন। অপারেশনের পর কয়েক ঘণ্টা ভালো থাকলেও চার ঘন্টার মধ্যে দুজনেই মারা যান।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে তারা মারা গেছেন। অপারেশন শেষ করে লোকবলের অভাবে বেডে দিতে দেরি করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর বেডে নেয়ার পরই তাদের অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। হাসপাতালের সেবিকারা নিষিদ্ধ স্যালাইন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন দিলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়। রোগীদের অবস্থা অবনতি জেনেও কোনো চিকিৎসককে ডাকেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রথমে স্বপ্না খাতুন মারা যান। এদিকে ইনছানার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়। 

ইনছানা খাতুনের মা আসমা বেগম বলেন, আল্ট্রাসনো করালে চিকিৎসক দ্রুত আমার মেয়েকে সিজার করতে বলেন। এরপর আইডিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে অপারেশন করে এক ঘন্টারও বেশি সময় অপারেশন রুমেই ফেলে রাখে। বেডে দিতে বললে লোক না থাকায় অযুহাত দেখিয়ে সেখানেই ফেলে রাখা হয়। অনেকক্ষণ পর বেডে নেওয়ার সঙ্গেই আমার মেয়ে মারা যায়। আমাকে মেয়েকে ওরা হত্যা করেছে। আমি ওদের বিচার চাই।

স্বপ্না খাতুনের সিজার করা চিকিৎসক ডা. লিপি জানান, রোগীর আগেও অপারেশন হয়েছিলো। এটিই প্রথম নয়। এ অপারেশনের পূর্বে তার কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল না। রিপোর্ট অনুযায়ী রোগী অপারেশনের জন্য ফিট ছিলেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই অপারেশন শেষ হয়েছে। তবে অপারেশন পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। হাসপাতালের কেউই তাকে এ বিষয়ে কিছু অবহিত করেনি।

ইনছানার সিজার করা চিকিৎসক ডা. লিজা জানান, রোগীর বাচ্চা পেটের ভেতরে পায়াখানা করে। ফলে ইমার্জেন্সি সিজার করানো হয়। তবে এর জন্য রোগীর কোনো ঝুঁকি ছিলো না, হয়তো বাচ্চার সমস্যা হতে পারতো। কিন্তু বাচ্চা সুস্থ্যই আছে। রোগীকে রাজশাহীতে রেফার্ড করলেও আমাকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে রোগীদের মৃত্যুর পর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নানা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেলে চিকিৎসা অনুপযোগী সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি ওই হাসপাতাল সিলগালা করেন সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান।

তিনি আরও বলেন, দুজন রোগীর একজনের তথ্য হাসপাতালে আছে। আরেকজনের তথ্যই এদের কাছে নেই। মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন ও নিষিদ্ধ স্যালাইন পুশ করাসহ নানা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। সেগুলো জব্দও করা হয়েছে। আপাতত এ হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের অবহেলার বিষয়ে তিনি বলেন, আপাতত চিকিৎসকদের কোনো দায় আমরা দেখিনি।  হাসপাতালের অব্যস্থাপনার কারণেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত