বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জাভি আর জাবির গল্প

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম

দুজনেই একটা সময় একসঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ ভূমিকা ছিল তাদের। মধ্যমাঠে ইনিয়েস্তার সঙ্গে জাভি হার্নান্দেজ ও জাবি আলোনসোর রসায়ন দারুণ জমেছিল।

দুজনেই মিডফিল্ডার ছিলেন। নাম পুরো মিল না হলেও কাছাকাছি বলা যায়। জাতীয় দল ছাড়া একসঙ্গে খেলা হয়নি তাদের। জাভি তার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই খেলেছেন বার্সেলোনাতে। আর জাবি সোসিয়াদাদ, লিভারপুল, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্নে।

২০০৮ ইউরোতে জাবি আলোনসো বদলি হিসেবেই খেলেন বেশি। তবে এরপর ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১২ ইউরোতে প্রায় নিয়মিত একাদশে ছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে বার্সার মিডফিল্ডের অন্যতম কান্ডারি ছিলেন জাভি হার্নান্দেজ। তো রিয়ালের মিডফিল্ডের ভরসা জাবি আলোনসো।

জাবি যখন ২০০৯-১৪ পর্যন্ত রিয়ালে ছিলেন তখন এল ক্লাসিকোতে মুখোমুখি হতেন জাভির। সব মিলিয়ে ২৯ ম্যাচ খেলেছেন একে অন্যের বিপক্ষে। এর মধ্যে ৬টা ছিল ফাইনাল। ১৪টা ম্যাচ জিতেছেন জাভি। ৮টা জাবি।

জাবি ও জাভি স্পেনে থাকতে ভালো বন্ধুও ছিলেন। তবে ক্লাব পর্যায়ে প্রতিপক্ষ দলে খেলতে গিয়ে তাদের বন্ধুত্বে কিছুটা ফাটল ধরে। জাবি ও জাভির একসঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনও করার কথা ছিল। জাভি সেটি না করে দেন। জাভির না করার পেছনে আছে আছে বিশেষ এক কারণ। এক এল ক্লাসিকো ম্যাচে জাভি নেমেছিলেন অ্যাকিলিস টেন্ডন (পায়ের পেছন দিকে নিচের পেশিতে টান) ইনজুরি ঝুঁকি নিয়ে। রিয়ালে থাকা আলোনসো বার বার জাভির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। এ সময় জাভি হার্নান্দেজ আলোনসোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি আহত হতে পারেন। জাভির এ কথা শুনে তাকে উল্টো অপমান করেন জাবি আলোনসো। জাবির এমন আচরণে হতবাক হন জাভি। সেদিনের পর থেকে জাভি ও জাবির বন্ধুত্বটা আর আগের মতো নেই।

রিয়াল-বার্সা লড়াইয়ে জাবি আর জাভি

স্পেনের হয়ে জাবির চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন জাভি। জাভি ১৩৩ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল। জাবি আলোনসো ১১৪ ম্যাচে করেছেন ১৬ গোল। অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে গোল, অ্যাসিস্টে জাবিকে পেছনে ফেলেছেন জাভি।

খেলা ছাড়ার পর ইউরোপের এলিট কোচিং কোর্স একসঙ্গেই করেছেন জাবি ও জাভি। জাভি বার্সেলোনার হয়ে কোচ হিসেবে শিরোপা জিতেছেন আগেই। তার আগে কাতারের ক্লাব আল সাদকেও শিরোপা জেতান তিনি। আর জাবি সদ্যই লেভারকুসেনকে জিতিয়েছেন জার্মান লিগ শিরোপা।

ইউরোপে কোচ হিসেবে নিজেদের প্রথম লিগ শিরোপা জেতার আগে পরিস্থিতিটা বলতে গেলে প্রায় এক ছিল এই দুজনের জন্য। জাভি কোচ হিসেবে বার্সায় যোগ দেন মৌসুমের শুরু থেকে নয়, কিছুটা পরে। ২০২১ এর নভেম্বরে জাভি যখন দায়িত্ব নেন ২০ দলের লিগে বার্সার অবস্থান ছিল ৯ নম্বরে। জাভির অধিনে প্রথম মৌসুমে দ্বিতীয় অবস্থানে শেষ করে বার্সা। পরের মৌসুমে জেতে লিগ শিরোপা।

জাভি-জাবি একসঙ্গে জিতেছেন ২০১০ বিশ্বকাপ

জাবিও লেভারকুসেনে কোচ হিসেবে যুক্ত হন মৌসুমের শুরুতে নয়, পরে। ২০২২ এর অক্টোবরে জাবি যখন লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেন দল ১৭তম স্থানে ছিল। সেই মৌসুমে ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে লেভারকুসেন। এবারের মৌসুমে লিগে টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এরই মধ্যে শিরোপা নিশ্চিত করেছে লেভারকুসেন।

জাভি ও জাবি মিডফিল্ডার হলেও তাদের খেলার স্টাইলে ছিল ভিন্নতা। জাভি বার্সায় টিকিটাকা স্টাইলে খেলে অভ্যস্ত ছিলেন। প্লে-মেকার রোলেই বেশি দেখা যেত তাকে। জাবি মিডফিল্ডে কিছুটা ডিফেন্সিভ ভূমিকায় থাকতেন। লং পাস দেওয়াতে দারুণ দক্ষতা ছিল তার। খেলার ধরনের মতো দুজনের কোচিংয়ের ধরনেও আছে ভিন্নতা। জাভির কোচিংয়ে অনেকে দেখেন পেপ গার্দিওলার প্রভাব। তিনি বেশিরভাগ সময় দলকে খেলান ৪-৩-৩ ফরমেশনে। আর জাবির মূল কথা যেন, মিডফিল্ড দখলে রাখতে পারলে, খেলায় জেতার সুযোগ বেড়ে যাবে। তাই তো জাবি আলোনসোর পছন্দের ফরমেশন ৩-৪-২-১।

জাভি ও জাবির মিল-অমিল যাই হোক কোচ হিসেবে তারা আরও সাফল্য পাক তাই চাইবেন ভক্তরা। এই মৌসুম শেষেই বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন জাভি। গুঞ্জন ছিল জাবিও লেভারকুসেন ছাড়বেন। তবে পরে নিজেই জানিয়েছেন লেভারকুসেনে থাকছেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত