‘কৃষি জমি সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও ‘দ্বীপ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনে সংসদকে পরামর্শ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০০ পিএম

বাংলাদেশের কৃষি জমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ইত্যাদি সুরক্ষার জন্য ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬ এর খসড়াকে দ্রুত আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দ্বীপ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনে ‘দ্বীপ উন্নয়ন আইন’ দ্রুত প্রণয়নে তাগিদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে, ফসলি জমিতে পুকুর খননের বিধি নিষেধ আরোপ করে ‘কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন’র খসড়া আইন প্রণয়ন করা হলেও কোনো এক অজানা কারণে এটি এখনো আলোর মুখ দেখছে না।

নওগাঁর মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ‘মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অমান্য করে পুকুর খনন করেছেন—এমন অভিযোগে তাকে খনন বন্ধ করতে পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে স্থানীয় ভূমি অফিসের দেওয়া নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া রায়ে এ পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে ওই ব্যক্তিকে দেওয়া নোটিশের আইনগত বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুল চূড়ান্ত উল্লেখ করে নোটিশ বাতিল করে দিয়েছে আদালত। ২০২২ সালের ২ জুন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। গতকাল মঙ্গলবার ১৫ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ের অনুলিপি জাতীয় সংসদের সকল সদস্য, সকল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ই-মেইলে পাঠাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

সংবিধানের ৪২ (১) অনুচ্ছেদের মর্মার্থ উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, ‘এটি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর এবং যেকোনোভাবে এর বিলি—ব্যবস্থা তথা শ্রেণি পরিবর্তন সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। কোনোভাবেই উক্ত মৌলিক অধিকারে বাধা প্রদান করা যাবে না। নাগরিকের সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর এবং যেকোনোভাবে এর বিলি— ব্যবস্থা তথা শ্রেণি পরিবর্তন এর অধিকারে পরিবর্তন, বিধি-নিষেধ এবং যেকোনো প্রকারের নিয়ন্ত্রণ কেবলমাত্র সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের মাধ্যমে করতে হবে।’

রায়ে ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ পর্যালোচনাসহ ৪ ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, পর্যালোচনায় এটি কাচের মতো পরিস্কার যে, বিপণন তথা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান থেকে মাটি বা বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু স্বীকৃত মতেই আলোচ্য মোকদ্দমায় দরখাস্তকারী (রিট আবেদনকারী) বিপণন বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোনো মাটি উত্তোলন করছেন না।’

আদালত বলে, ‘ফসলি জমিতে পুকুর খননের বিধিনিষেধ আরোপ করে ও কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬ খসড়া আইন প্রণয়ন করা হলেও কোনো এক অজানা কারণে এটি এখনো আলোর মুখ দেখছে না। বাংলাদেশের কৃষি জমি, বনভূমি, টিলা, পাহাড় ইত্যাদি সুরক্ষার জন্য উপরিল্লিখিত আইনটি দ্রুত জাতীয় সংসদ কতৃর্ক পাশ হওয়া অতি আবশ্যক। কৃষি জমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৬ অতি দ্রুত আইন আকারে পাশ করতে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ প্রদান করা হলো।’

রায়ে ভারত, জাপান ও ফিনল্যান্ডে দ্বীপের উন্নয়ন, সংরক্ষন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রণীত বিভিন্ন আইন যতটুকু সম্ভব অনুসরণ ও সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি ‘দ্বীপ উন্নয়ন কতৃর্পক্ষ’ নামে পৃথক কতৃর্পক্ষ গঠনের নিমিত্তে দ্বীপ উন্নয়ন আইন দ্রুত প্রণয়নে জাতীয় সংসদকে পরামর্শ দেয় হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত