ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে ক্লাব ফুটবলের তীর্থস্থান বললে ভুল কিছু হবে না। ইপিএলকে কঠিন লিগ মনে করা হলেও ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তারা বেশ পিছিয়ে। সেখানে দীর্ঘকাল ধরে রাজত্ব বলতে গেলে রিয়াল মাদ্রিদের। রিয়াল ছাড়া অন্য যে ক্লাবগুলো শিরোপার দৌড়ে থাকে, তাদের মধ্যে অন্যতম বায়ার্ন মিউনিখ।
প্রত্যেক ফুটবলারের স্বপ্নে যেমন থাকে বিশ্বকাপ জয়, তেমনি চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফির ছোঁয়ার স্বাদও হয় অনেকের। হ্যারি কেইনের কোনোটাই ছোয়া হয়নি। এমনকি ইংলিশ লিগ শিরোপাও জেতা হয়নি তার। ক্যারিয়ারে একবার খেলতে পেরেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। কিন্তু লিভারপুলের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হন কেইন।
প্রায় ১৫ বছর টটেনহ্যামে খেলার পর ট্রফির স্বাদ পাওয়ার আশায় পাড়ি দিয়েছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের পাওয়ার হাউজ বায়ার্ন মিউনিখে। জার্মান লিগ শিরোপাটা হাতছাড়া হয়ে গেলেও ম্যানচেস্টার সিটিকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে পৌছে গেছেন সেমিফাইনালে। আরেকটি পদক্ষেপ পেরোলেই ফাইনাল, ফাইনাল জিতলে শিরোপা স্বাদ।
তার মতো জুডি বেলিংহ্যাম ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ছোট দল বার্মিংহ্যাম সিটির হয়ে। ২০২০ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। সেই ক্লাবটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেললেও কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারেননি। শিরোপা স্বাদের আশায় যোগ দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সফলতম দল রিয়াল মাদ্রিদে। আর স্প্যানিশ জায়ান্টের হয়ে প্রথম বছরই লিগ শিরোপার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লড়াইয়ে আছেন।
সিটিকে হারানোর পর কেইন তাই বলেছেন, শিরোপার এই স্বাদটা পেতেই তিনি আর জুড বেলিংহ্যামের দেশ ছেড়ে বাইরের লিগে খেলতে এসেছেন, 'এগুলো সেই অভিজ্ঞতা যার জন্য আমি মনে করি আমরা দুজনেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছি। চেষ্টা করবো এমন বড় রাতে ভালো খেলার জন্য।’
তবে বিষয়টা এমন দাড়িয়েছে যে, কেইন বা বেলিংহ্যাম- এবার যে কোনো একজনের স্বপ্নসাধ পূরণ হতে পারে। কারণ ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। মিউনিখ আর মাদ্রিদে দুই লেগের সেমিফাইনাল জিতে একজন যাবেন ফাইনালে, আরেকজনকে এবারের মতো থেমে যেতে হবে।
তবে যিনিই ফাইনালে উঠবেন, তার আবার ঘরে ফেরার মতো ব্যাপার ঘটবে। কারণ এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল যে ওয়েম্বলিতে। কেইন বলেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের দুজনেরই একটাই স্বপ্ন। ফাইনালটা হবে আমাদের জাতীয় (ওয়েম্বলি) স্টেডিয়ামে। তাই সেখানে গিয়ে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করার জন্য একটি অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা রয়েছে। কিন্তু আপনি জানেন যে আমাদের সামনে এখনও দুটি ম্যাচ আছে যা সত্যিই কঠিন হতে চলেছে। আমাদের আপাতত লক্ষ্য ঐ দুটি ম্যাচ নিয়েই।’
বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৯টি গোল করেছেন কেইন। অন্যদিকে ২০ বছর বয়সী বেলিংহ্যাম এই মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদে আসার আগে ডর্টমুন্ডে থাকতে কখনও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে খেলা হয়নি তার। তবে সাফল্য নেহায়েত কম নয়। গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল ডর্টমুন্ড। কিন্তু শেষ ম্যাচে বায়ার্নের কাছে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গিয়ে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল। ঝুলিতে আছে একটি জার্মান কাপও। এবার তার সামনে সুযোগ ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জেতা। তবে তার আগে সেমিতে টপকাতে হবে স্বদেশী অধিনায়ক কেইনের দল বায়ার্নের বাধা।
