বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের হার নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৩ এএম

বাংলাদেশে স্বল্প সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের (সিজারিয়ান) হার অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ধরনের প্রসবের প্রকৃত কারণ দেখার ও এ ধরনের অস্ত্রোপচারে বিধিনিষেধ আরোপে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কথা বলেছে কমিশন।

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) এক প্রসবিনীকে জোরপূর্বক সিজারিয়ান করার জন্য চাপ প্রয়োগ ও তাতে রাজি না হওয়ায় প্রসবিনীকে আপত্তিকর কথা শোনানোর অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেও বলেছে কমিশন।

গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১১ সালে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ছিল ১৮ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ২৪ শতাংশ, ২০১৭-১৮ সালে ৩৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ৪১ শতাংশ ও ২০২৩ সালে তা আরও বেড়ে ৫১ শতাংশ হয়েছে।

বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া শিশু জন্মে অস্ত্রোপচার করা মা ও নবজাতকের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার এক বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে মানবাধিকার কমিশন জানতে পারে, মিটফোর্ড হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে গিয়েছিলেন রাজধানীর শ্যামপুরের এক নারী। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে স্বাস্থ্যকর্মী জানায় সব স্বাভাবিক রয়েছে। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তার আর্থিক অবস্থা জানতে চান এবং অস্ত্রোপচারের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই নারী তার আগের দুই সন্তান স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে জানিয়ে অস্ত্রোপচারে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর ওপর নানা ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেন। চিকিৎসক আপত্তিকর মন্তব্যসহ হয়রানিমূলক কথা বলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে মুগদা নবস্বাস্থ্য নামের এক সরকারি হাসপাতালে ওই নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত