বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বলিউড শিল্পী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কে?

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন ভোট গণনা চলছে। গত কয়েক বছর ধরে শিল্পী সমিতির এই নির্বাচন যে পরিমাণ আলোচনায় তৈরি করছে, তাতে করে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যদি ঢালিউডের শিল্পীদের নির্বাচন নিয়ে এতো আলোচনা, এতো তর্ক বিতর্ক চলে তাহলে বলিউড কিংবা হলিউডের শিল্পীদের নির্বাচন নিয়ে নিশ্চয়ই আরো বড় ক্যানভাসে আলোচনা চলে। আসলে কি তাই?

বিগত সময়ের শিল্পী সমিতির নির্বাচন দেশব্যাপী বেশ শোরগোল ফেলে দেয়। শুধু তাই নয়, সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল; তা সমাধানের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন নিপুণ ও জায়েদ খান। দেশের শীর্ষ আদালত এখন পর্যন্ত ওই পদের রায় চূড়ান্তভাবে দেননি। এখনো সেই ফল ঝুলে আছে। এরইমধ্যে সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে, আজ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এবারের নির্বাচনে জায়েদ খান দাঁড়াননি। সেই প্যানেল থেকে জায়েদের জায়গায় দাঁড়িয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল। অপর প্যানেলে নিপুণ সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াই করছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়; নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে ৪০০ গণমাধ্যমকর্মী 'নির্বাচনী পাস' নিয়েছেন। যদিও এদের সবাইকে গণমধ্যমকর্মী বলার পক্ষে নন মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে মূলধারার গণমাধ্যমের ১০ থেকে ১১ জন পর্যন্ত পাস নিয়েছেন। নির্বাচন যখন চলছে তখন সামাজিক মাধ্যমে কথা হচ্ছে যে, বলিউডেও কি এমন নির্বাচন হয় কিংবা হলিউডে? 

এ বিষয়ে নানা মাধ্যমেই জানার চেষ্টা করা হয়েছে যে বলিউড শিল্পীদের কি কোনো সংগঠন রয়েছে? থাকলে তাদের নির্বাচন  হয়? হলেও এমন শোরগোল পড়ে কি না? তবে এসবের উত্তরের জন্য সেভাবে গুগল কোনও তথ্য দিতে পারেনি। একটি সংগঠনের নাম থাকলেও সেখানে মূলধারার কোনো শিল্পীদের নাম পাওয়া যায়নি।

আর আপনারাও জানেন শাহরুখ, সালমান কিংবা আমির খানরা শিল্পী সমিতির কোনো নির্বাচনে দাঁড়ান না। শুধু তাই নয়, এই সময়ের রণবীর কাপুর, রণবীর সিং কিংবা ইকি কৌশলও কোনো নির্বাচনে দাঁড়ান না; এমন কোনো নির্বাচনে দেখা যায় না কাজল, কারিনা, ক্যাটরিনাদেরও। 

তাহলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীদের নিয়ের এতো শোরগোল কেন? এটাকে সংশ্লিষ্টরা বলছে সম্পূর্ণ মিডিয়া হাইপ। আগে শাকিব খানও শিল্পী সমিতির নির্বাচন করেছেন, হয়েছেন সভাপতিও। কিন্তু এমন মিডিয়াবাজি ছিল না। সংবাদ মাধ্যমেও ফলাও করে এসবের খবর আসতো না। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মিডিয়ার কল্যাণে এই নির্বাচন ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।  

এরইমধ্যে নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের একটি মন্তব্য আলোচনায় এসেছে। এই নির্বাচন নিয়ে মাতামাতির ক্ষেত্রে ইউটিউবারদের ভূমিকা উল্লেখ করেছেন।

গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলছেন, ‘শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ দর্শকের ভূমিকা বা আগ্রহ কোনোটাই নাই। সমিতির নামে তারা কিছুদিন এফডিসিতে সমবেত হয়। সেই উপলক্ষে ইউটিউবাররা যায়। সেখানে নানা রকম সার্কাস দেখানো হয়। পুরো জাতি মজা করে সেই সার্কাস দেখতে থাকি। এই সমিতি এখন সার্কাসে পরিণত হয়েছে।’ 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত