দুই ব্যক্তিকে ৩২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে রেখে ছেড়ে দেওয়ার পরদিন তাদের ছাত্রী অপহরণ মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, হেফাজতে থাকাকালে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তোলেনি মামলার বাদী। তবে বাদীর ভাষ্য, তিনি যথা সময়েই থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন।
জানা যায়, উপজেলায় গত রমজানের আগের দিন অপহরণের শিকার হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক স্কুলছাত্রী। উপজেলার টাঙ্গারিয়াপাড়ার আজাদ হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওই ছাত্রীকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। মেয়েকে ফিরে পেতে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন অপহৃত ছাত্রীর বাবা। এরপর গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আনোয়ারের ছোট ভাই কলেজছাত্র ইমাম আলী ও খালাতো বোন আমেনা বেগমকে থানায় আনেন এসআই খায়রুল ইসলাম। পরদিন ১৬ এপ্রিল রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে আনোয়ারসহ অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাত ৩টার দিকে থানা থেকে ইমাম আলী এবং আমেনাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কিন্তু পরদিন ১৭ এপ্রিল বকশীগঞ্জ থানায় রুজুকৃত ছাত্রী অপহরণ মামলায় তাদের দুজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী বলেন, ‘ঘটনার পর গত ১৫ মার্চ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। দুজনকে পুলিশ কেন ছেড়ে দিয়েছে, সেটা জানি না।’
পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়া ইমাম আলী বলেন, ‘গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ আমাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ১৬ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে ৩২ ঘণ্টা পর আমাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়।’
এস আই খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। আচার-আচরণ ভালো লাগায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’
বকশীগঞ্জ থানার ওসি আবদুল আহাদ খান বলেন, ‘তথ্যটা সঠিক নয়। ৩২ ঘণ্টা কেন, ২৪ ঘণ্টার এক মিনিট বেশি পুলিশ কখনো রাখে না। জিডির তদন্তের লক্ষ্যে তাদের আনছে, মামলা হয়েছে পরে।’
