ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বহু দেশে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন দৃশ্যমান। অথচ মানুষ ভুলে গেছে, সমগ্র মানবজাতি একই পিতা-মাতার সন্তান। এটা ইসলামের মানবাধিকার বিষয়ক মৌলিক ধারণা। মানবাধিকারের প্রাথমিক বিষয়গুলো হলো স্বাভাবিক জন্মের অধিকার, স্বাভাবিক জীবনধারণের অধিকার, মৌলিক প্রয়োজনীয় বস্তু ও বিষয় তথা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নিরাপদ জীবনযাপন এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনের অধিকার, সম্মানজনক জীবন ও স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার। এসব অধিকার মহান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন। ইসলাম প্রকৃতির অনুকূল ও মানবিক স্বভাবজাত ধর্ম। তাই সব মানুষ জন্মগতভাবেই এসব অধিকার লাভ করে থাকে।
বিশ্বে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানুষের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের মধ্যে রয়েছে জীবন ধারণের অধিকার, ধর্মের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার। এই অধিকার লঙ্ঘিত হলে মানুষের বেঁচে থাকা অর্থহীন ও অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইসলামে মানবাধিকার ধারণা শুধু কোনো ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলাম মানবজাতিকে জন্মগতভাবে সমান মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন গোত্র ও বংশে, যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক মর্যাদাবান যে অধিক খোদাভীরু।’ -সুরা হুজরাত ১৩
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবজীবন অতি পবিত্র সম্পদ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যে জীবনকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তোমরা তাকে হত্যা কোরো না।’ -(সুরা বনি ইসরাঈল ৩৩) ইসলাম অসংগত কারণে মানবজীবন হরণ করতে নিষেধ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীর প্রাণ হরণ করল।’ -(সুরা মায়েদা ৩২) ইনসাফ ও সাম্যনীতি ইসলামি বিচারব্যবস্থার অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে করবে।’ -সুরা নিসা ৫৮
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা.) মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে এ জগতে এসেছিলেন। তিনিই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার ও অজ্ঞানতার যুগে পাপাচার, যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা, শিশুহত্যা ও কন্যাশিশুকে জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়ার মতো অমানবিক প্রথার প্রচলন ছিল। ইসলাম মানবতাবিরোধী সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধকে কবিরা গুনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং এর জন্য দুনিয়ায় চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন আজাবের ঘোষণা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ (সৃষ্টি ও গুণাবলিতে) তোমাদের একের ওপর অন্যের যে প্রাধান্য দিয়েছেন তা দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির কোরো না। প্রত্যেক পুরুষ তাই পাবে, যা সে অর্জন করে এবং প্রত্যেক নারী তাই পাবে যা সে অর্জন করে।’ -সুরা নিসা ৩২
আসুন, ফিলিস্তিন ও মায়ানমারসহ সারা বিশ্বে যত দেশে যত অঞ্চলে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ইসলামের সুমহান নির্দেশনা মোতাবেক শান্তি প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তুলি। মহান আল্লাহ আমাদের মানুষের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
