সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পাওয়ার পর অবশেষে দুবাই আল হারামিয়া বন্দরে পৌঁছেছে এমভি আবদুল্লাহ। গতকাল রবিবার বিকেল ৫টায় বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায় জাহাজটি। এতে থাকা ৫৫ হাজার টন কয়লা খালাসের পর আগামী ১০ থেকে ১২ মে জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন জাহাজ কোম্পানির মালিক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিম।
মেহেরুল করিম জানান, ১৩ এপ্রিল মুক্তির পর প্রথম দিকে কম গতিতে জাহাজটি চালানো হলেও সোমালিয়ার দস্যুদের আওতাধীন এলাকা পার হওয়ার পর গতি বাড়িয়ে চলতে থাকে এমভি আবদুল্লাহ। এখন দুবাইয়ে কয়লা খালাসের পর আগামী ১০ থেকে ১২ মের মধ্যে জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের মধ্যে ২১ জন জাহাজের সঙ্গে আসবেন। বাকি ২ নাবিক দুবাই থেকে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন।
জানা যায়, সেকেন্ড অফিসার মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও স্টুয়ার্ড মোহাম্মদ নুর উদ্দিন দুবাইয়ে জাহাজ থেকে নেমে যাবেন। তারা উভয়ে বিমানে করে চট্টগ্রামে আসবেন।
উল্লেখ্য, ১৩ এপ্রিল ভোররাত ৩টায় সোমালিয়ান দস্যুদের কাছ থেকে মুক্তি পায় এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক। দস্যুদের ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনটি ওয়াটার প্রুফ লাগেজে উড়োজাহাজের মাধ্যমে এগুলো পানিতে ফেলা হয়। ডলার গণনার পর নিশ্চিত হয়েই জাহাজ ছেড়ে যায় ৬৫ জলদস্যু। গত ১২ মার্চ বেলা দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে এমভি আবদুল্লাহর সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রথমে অস্ত্র ঠেকিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙর করা হয়েছিল। এর আগে একই মালিক গ্রুপের এমভি জাহান মণিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
