চীনে ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও ১০ জন। এছাড়া বন্যার কবলে পড়া সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ গুয়াংডং থেকে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বিবিসি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকদিনের ভারী বষর্ণে তলিয়ে গেছে গুয়াংডং। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এবং বিভিন্ন অনলাইনের ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা কোমর সমান পানিতে নৌকায় করে দুর্গতদের সরিয়ে নিচ্ছে। বন্যায় বেশ কয়েকটি বড় নদীর তীর উপচে পড়েছে। পানির উচ্চতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ ।
জানা গেছে, উত্তর গুয়াংডংয়ের একটি নদীর পানির স্তর ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছাবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত বিপজ্জনক এই সীমায় পানির স্তর পৌঁছায়নি।
অবশ্য গুয়াংডংয়ের বেশিরভাগ এলাকা পার্ল নদীর তীরে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঝড়বৃষ্টির কারণে ওই এলাকা বন্যার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। ব-দ্বীপ খ্যাত গুয়াংডং চীনের অন্যতম প্রধান উৎপাদন অঞ্চল। প্রদেশটিতে ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে।
অপরদিকে বন্যায় প্রাদেশিক রাজধানী গুয়াংজুর পাশাপাশি ছোট শহর শাওগুয়ান এবং হেইউয়ানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রদেশটির প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ৮০ শতাংশ পরিবার রবিবার রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে গুয়াংজুর বাইয়ুন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বাতিল ও বিলম্ব হয়েছে। সেখানকার কমপক্ষে তিনটি শহরের সব স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গুয়াংডং প্রদেশে কয়েক ডজন বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যায় প্রদেশটিতে প্রায় ১৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ব্যর্থতা নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের পদত্যাগ