প্রচণ্ড গরমে জাহান্নামের অনুভব

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১২ এএম

এপ্রিল জুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে যাচ্ছে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ। অসহনীয় উষ্ণতায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সর্বত্র খাঁ খাঁ রোদ্দুর। আকাশে সামান্য মেঘ থাকলেও তা থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বর্তমানে চলছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। খাবারের চেয়ে পানির চাহিদা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। গরমে গায়ের চামড়ায় ফোস্কা পড়ার অবস্থা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হাদিস থেকে জানা যায়, গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তীব্রতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কাজেই তীব্র গরমে জাহান্নামের কথা স্মরণ করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে বেশি বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও গরমের তীব্রতা কমিয়ে পরিবেশ শীতলের জন্য প্রার্থনা করা উচিত।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নাম আপন প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করে বলেছিল, হে আমার প্রভু! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার একাংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। মহান আল্লাহ তখন তাকে অনুমতি দিলেন দুটি নিঃশ্বাস ফেলার। এক নিঃশ্বাস শীতকালে, আর এক নিঃশ্বাস গরমকালে। এ জন্যই তোমরা গরমকালে তাপের তীব্রতা এবং শীতকালে শীতের প্রচণ্ডতা অনুভব করে থাকো। (সহিহ বুখারি)

তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর দরবারে বৃষ্টি কামনা করা মুস্তাহাব। যিনি বৃষ্টির মালিক তার কাছেই বৃষ্টি প্রার্থনা করতে বলেছে ইসলাম। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা নানা প্রতিকূলতায় পাপমোচনের জন্য আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ অন্তরে তওবা-ইসতিগফার করতে হবে। তবেই আল্লাহতায়ালা মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণ করবেন এবং বৃষ্টি দিয়ে নিসর্গ সিক্ত করবেন।

তওবা করলে বৃষ্টি বর্ষণের সম্ভাবনা থাকে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর বললাম, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য অজস্র বৃষ্টিধারা প্রবাহিত করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন।’ (সুরা নুহ, আয়াত ১০-১২)

মহান আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর পালাক্রমে আগমন। সুতরাং প্রচণ্ড গরমের সময় বান্দা যেন জাহান্নামের গরমের কথা স্মরণের দ্বারা দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত