আহত ১৫

মধুখালীতে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের ফাঁকা গুলি 

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:০৫ পিএম

ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লীতে মন্দিরে আগুন দেবার অভিযোগে নির্মান শ্রমিক দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা মধুখালী। দুই ভাইকে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে স্থানীয় জনতা। এ সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে। 

এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ওই এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাঘাট এলাকার ঈদগাহ মাঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষায় ‌‘সর্বস্তরের জনগণ’ এর ব্যানারে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে পঞ্চপল্লীতে দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার বিচার দাবি জানান উপস্থিত জনতা। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল মহাসড়ক দিয়ে ডুমাইনের পঞ্চপল্লীর দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাগান বাজার এলাকায় বাঁধা দেয়। এ সময় লোকজন একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে মধুখালীর মালেকা চক্ষু হাসপাতালের সামনে, কামারখালী ব্রিজের কাছে মাঝিবাড়ি ও বাগাটের ঘোপঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা রাস্তায় গাছের  গুড়ি ফেলে মাহসড়ক অবরোধ করে। 

রাস্তা অবরোধের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেন পুলিশ। কিন্তু রাস্তা ছেড়ে না যাওয়ায় পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে। এতে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে বিকেল চারটার রাস্তা ছেড়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা । 

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমদাদ হোসাইন বলেন, ডুমাইনের পঞ্চপল্লীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধুখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল থেকে নওপাড়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পঞ্চপল্লীতে মন্দিরে আগুন দেবার অভিযোগ এনে  পিটিয়ে আশরাফুল ও আশাদুল নামের নির্মান শ্রমিক দুই ভাইকে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে মধুখালী থানার ইউএনও এবং ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এ সময় ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। খবর পেয়ে ফরিদপুর থেকে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ঘটনাস্থলে যান। প্রায় ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর আহতদের উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত