নানা নাটকীয়তার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন অপহরণ ও মারধরের শিকার দেলোয়ার হোসেন পাশা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
দেলোয়ার কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উপজেলার কলম ইউনিয়নের পার সাঐল এলাকার শের আলীর ছেলে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, কোনো পদে একক প্রার্থী থাকলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর দিন রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারেন। যেহেতু সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দেলোয়ার ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী নেই তাই তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্ধারিত তারিখে ভোট হবে।
গত ১৫ এপ্রিল বিকালে নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ারকে মারধর করে একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে নিয়ে যায় লুৎফুল হাবিব রুবেলের অনুসারীরা। এরপরে সিংড়ার সাঐল গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
এ ঘটনায় তার বড় ভাই মজিবর রহমান বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হামলার ঘটনার সঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেলের নাম গণমাধ্যমে উঠে আসে।
সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা লুৎফুল হাবিব রুবেল ও দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে রবিবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন প্রতিমন্ত্রী পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেল।
