রোগীদের প্রতি অবহেলা কিংবা চিকিৎসকদের ওপর হামলা—কোনাটাই মেনে নেব না

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৫ পিএম

চিকিৎসকদের টাকার পেছনে না দৌড়িয়ে জনগণের মন জয় করার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকরা হলেন উপরওয়ালার আশীর্বাদ। চিকিৎসকরা যে টাকার পেছনে দৌড়াবেন তা নয়, সততার সঙ্গে কাজ করলে, সুন্দর ও ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীসহ জনগণের মন জয় করে সম্মান অর্জন করতে হবে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দিলে যে সম্মান পাওয়া যায়, আমি নিজেই তার প্রমাণ।

আজ রবিবার (২৮ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ৪১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা) ক্যাডার-এর নব নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি যখন সহকারী সার্জন হিসেবে সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচরের গ্রামে যোগদান করে ছিলাম তখন নৌকা করে যেতাম, ভাঙা ঘরে থাকতাম। তবে সেখানে মানুষের কাছ থেকে যে সম্মান, ভালোবাসা পেয়েছি তা কোনোদিন ভুলতে পারব না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও রোগীদের সুরক্ষা দুটোই দেখার দায়িত্ব আমার। রোগীদের প্রতি অবহেলা ও চিকিৎসকদের ওপর হামলা কোনাটাই আমি মেনে নেব না। আপনারা রোগীদেরকে যথাযথ সেবা দিবেন, আপনাদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমার। যখনই প্রয়োজন হয় আমাকে কল দিবেন, আপনাদের সুরক্ষা আমি নিশ্চিত করব। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশ করে বলেন, নড়াইলে দেখলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো কোনো চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি, যা আমি কামনা করি না। বঙ্গবন্ধুই নির্দেশনা দিয়ে গেছেন তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

রোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। রোগী ও সাধারণ মানুষ একটু ভালো ব্যবহার পেলে, তাদের সাথে সুন্দরভাবে একটু কথা বললে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে একটু ধৈর্যসহকারে শুনলে এই সামান্যতেই তারা খুশি। 

'বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা অনেক এগিয়েছে' উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকেও রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে বাংলাদেশে আসছেন। সিএমএইচ-এ জোড়া মাথার দুই শিশুকে আলাদা করা হয়েছিল। পাঁচ বছর ধরে তারা ভালো আছে। এটা পৃথিবীর বুকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাংলাদেশের সাফল্যের একটা উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ৪১তম বিসিএস এর নব নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত