গেল বছরের শেষ দিকে মুক্তি পাওয়া ‘টুয়েলভথ ফেল’ সিনেমা নিয়ে সর্বত্র ছিল আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যেত সিনেমাটি নিয়ে নানা চর্চা। সেই সিনেমার পর এবার নেটিজেনরা মজেছেন ‘লাপাতা লেডিস’-এ। কিরণ রাও পরিচালিত এই সিনেমা নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে, সবার মুখে মুখে!
মাত্র ৪/৫ কোটি বাজেটের ছবিটি বক্স অফিসে আয় করেছে ২১ কোটিরও বেশী। কিন্তু এতো কম বাজেটের ছবিটি কেন সবার মুখে মুখে? এরজন্য সিনেবিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো জটিলতা ছাড়া সহজভাবে একটি দারুণ গল্প দর্শককে দেখাতে পেরেছেন কিরন রাও। মূলত গল্পের শক্তিকেই বেশীর ভাগ ছবিটি নিয়ে সর্বত্র আলোচনার জন্য ক্রেডিট দিচ্ছেন!
এই ছবির আদ্যোপান্তজুড়ে আছে গ্রাম্য সরলতা। অনেক দিন পর এক নিটোল মিষ্টি প্রেমের গল্পের সাক্ষী হলেন দর্শক। তবে এই ছবির পরতে পরতে লুকিয়ে আছে সামাজিক বার্তা, নারীশিক্ষা, পুরুষের একাধিপত্য, নারীর অসহায়ত্ব, যন্ত্রণা ও অসম্মানের কথা। তবে পরিচালক আড়ম্বরহীন, মোলায়েমভাবে ও হাস্যরসের ছোঁয়ায় সেসব কথা ছবিতে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাই এই ছবি কোথাও কাঁদাবে, কোথাও হাসাবে, আবার কোথাও ভাবাবে। আর মন ছুঁয়ে যাবে আনকোরা একঝাঁক তরুণ-তরুণীর সরল–সাদাসিধে অভিনয়।
গ্রামগঞ্জে বউবদলের ঘটনা নতুন কিছু নয়। আর এর পেছনে আছে নানান সামাজিক কুসংস্কার, রীতিনীতি আর নিয়মের বেড়াজাল। বাড়ির বউ মানেই একগলা ঘোমটা দিয়ে তাকে মুখ আড়াল করে থাকতে হবে।
বিপ্লব গোস্বামীর গল্প দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কিরণ ছবিটি নির্মাণ করেছেন। কিরণ ও তার দুই সহযোগী স্নেহা দেশাই এবং দিব্যানিধি শর্মা মিলে এই গল্পকে এক সরল মোড়কে পরিবেশন করেছেন। ছবির চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও ছবির গল্প আর তার আবেগ কোথাও চেনা। কিরণ রাও বলেছিলেন, এ ধরনের ঘটনা গ্রামগঞ্জে প্রায় ঘটে থাকে। তাই সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে ছবির কাহিনি বোনা হয়েছে। ছবিটির কোথাও এতটুকু একঘেয়ে লাগবে না। গল্প, লোকেশন, পরিচালনা, সংগীত, অভিনয়—সবকিছুই হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। কোথাও নেই আতিশয্যের চূড়ান্ত। শুধুই আছে নির্মল ভালোবাসা।
গল্পের পাশাপাশি যদিও এই ছবির প্রধান এবং অন্যতম শক্তি বলা যায় অভিনয়! ছবির গল্পটি মূলত তিন চরিত্রকে ঘিরে বোনা হয়েছে। আর এই তিন চরিত্রেই তিন প্রায় অচেনা মুখ। স্পর্শ শ্রীবাস্তব (দীপক কুমার), নীতাংশি গোয়েল (ফুল কুমারী) আর প্রতিভা রাংটার (জয়া) অভিনয় মন ছুঁয়ে যাবে। চরিত্রের সঙ্গে তারা একদম মানানসই। এই তিন অভিনেতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় গ্রাম্য সরলতা। এ ছবি থেকে অন্যতম সেরা প্রাপ্তি রবি কিষণের অভিনয়। তাকে থানার বড় বাবু শ্যাম মনোহরের চরিত্রে দেখা গেছে। তিনি বোধ হয় জীবনের অন্যতম সেরা কাজটি করেছেন এই ছবিতে। ছায়া কদমের তুখোড় অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয়।
অথচ এই চরিত্রটি নাকি শুরু করতে চেয়েছিলেন পরিচালক কিরণ রাওয়ের প্রাক্তন স্বামী এবং বলিউডর সুপারস্টার আমির খান। যিনি আবার এই ছবিটির প্রযোজকও।
