মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি

আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ১২:৩০ এএম

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আল্লাহতায়ালা মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন তার প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি মানুষের জীবন পরিচালনা করার জন্য দিয়েছেন বিধিবিধান। মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে এ বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। এটা অবশ্যই মানুষের জন্য এক বিশেষ মর্যাদার ব্যাপার। অন্য কোনো সৃষ্টিজীবের ক্ষেত্রে দুনিয়ার কোনো কর্মের জন্য পুরস্কারের যেমন ব্যবস্থা নেই, তেমনি শাস্তিও নেই। কিন্তু মানুষ এর ব্যতিক্রম। মানুষকে মহান আল্লাহর বেঁধে দেওয়া হালাল-হারামের সীমারেখায় অবস্থান করতে হয়।

মানুষ সৃষ্টি সম্পর্কে কোরআনের অনেক জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো পচা শুষ্ক ঠনঠনে মাটি থেকে।’ (সুরা হিজর ২৬) অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি অতি নগণ্য বস্তু থেকে। আল্লাহতায়ালার তুলনায় তার অবস্থান নিতান্তই তুচ্ছ। তাই গর্ব-অহংকারের এখানে কোনো সুযোগ নেই। অহংকার একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। দুনিয়াতে মানুষকে আল্লাহতায়ালা যে সব নিয়ামত দিয়েছেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য অনুগ্রহ। কোনোটাই তার নিজের অর্জন নয়।

এ কথা সবাই জানি, মানুষকে আল্লাহতায়ালা দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে। আর আখেরাত হলো কর্মফল প্রাপ্তির জায়গা, চিরস্থায়ী নিবাস। আল্লাহতায়ালা চান, মানুষ দুনিয়াকে পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবেই দেখুক। ক্ষণস্থায়ী নিবাস হিসেবে মুসাফিরের মতো দুনিয়ায় চলাফেরা করুক। কারণ দুনিয়ার অবস্থান, আখেরাতের তুলনায় বিশাল সমুদ্রের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানির সমতুল্য। কেউ যদি আখেরাতের সাফল্যের পেছনে দৌড়ায়, তাহলে ব্যর্থতার কোনো অবকাশ নেই। তাই একজন আখেরাতমুখী মানুষ কখনো হতাশ হয় না। দুনিয়ামুখী ব্যক্তিকে কখনো না কখনো ব্যর্থতায় পড়তে হয়। আর ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে উঠে দাঁড়াবার শক্তি সবার থাকে না। কেউ কেউ এ ক্ষেত্রে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়। আত্মহত্যার পেছনে এটা একটা বড় কারণ হিসেবে দেখা যায়। যা ইসলাম সমর্থন করে না।

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহতায়ালা মানুষকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন যা আর কাউকে দেননি। আর তাই মানুষের পরিচয় সে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। আল্লাহর প্রতিনিধিদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। এ প্রসঙ্গে হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘হে আদম সন্তান! আমি তোমাকে কেবলমাত্র আমার নিজের জন্য সৃষ্টি করেছি, আর অন্য সবকিছুকে সৃষ্টি করেছি তোমার জন্য। তোমার ওপর আমার যে অধিকার আছে, তা তুমি যেন কখনো ভুলে না যাও। যেসব জিনিস আমি তোমার জন্য সৃষ্টি করেছি তাতে যেন কখনো এতটা মনোযোগী হয়ে না যাও, যাতে তোমাকে যার জন্য সৃষ্টি করেছি, তার কথা ভুলে যাবে। হে মানুষ! আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য সৃষ্টি করেছি। এটাকে তুমি খেলা মনে কোরো না। আমি তো তোমার রিজিক, যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিস পরিবেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অতএব তুমি হতাশাগ্রস্ত হবে না। হে মানুষ! তুমি আমাকে পেতে চাইবে, তুমি আমাকে পাবে, যদি তুমি আমাকে পেয়ে যাও তবে তো সব কিছু পেয়ে গেলে। কিছুরই অভাব থাকবে না। কিন্তু তুমি যদি আমাকে হারিয়ে ফেলো, তাহলে তুমি হলে সর্বহারা। আমি যেন হই তোমার কাছে সর্বাধিক প্রিয়।’ কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই মানুষই আল্লাহকে ভুলে যায়। দুনিয়ার মায়াজালে মানুষ তার পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবকে আপনজনের কাতারে নিয়ে আসে। অথচ তাদের সবার সাধ্যের অতীত যা, সেই শাহরগেরও অধিক কাছে আল্লাহ প্রত্যেকের জীবনে অবস্থান করেন। ‘আমি তার ঘাড়ের শাহরগের চেয়েও বেশি কাছে আছি।’ সুরা কাফ: ১৬

আমাদের প্রত্যেকটা মুহূর্তের অবস্থা সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন তিনি। প্রকাশ্য-গোপন কোনো অবস্থাই তার কাছে লুকায়িত নয়। আল্লাহতায়ালাই একমাত্র সত্তা যার কাছে নিশ্চিন্তে নিজেকে সঁপে দেওয়া যায়। যাকে ডাকলে তিনি সেই ডাকে সাড়া দেন। বিপদাপদ থেকে মুক্ত করার ক্ষমতা রাখেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী! আমার বান্দা যদি তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তাহলে তাদের বলে দাও, আমি তাদের কাছেই আছি। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাক শুনি এবং জবাব দিই। কাজেই, তাদের আমার আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং আমার ওপর ইমান আনা উচিত।’ (সুরা বাকারা ১৮৬)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত