গরমে চাহিদা বেড়েছে পাথর আলীর চাচার কুলফি

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১০:২৬ পিএম

সারা দেশের মতো তীব্র তাপদাহে জ্বলছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ। এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের লোড শেডিং না থাকলেও এখানে তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে ঠাণ্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে অনেক। পথচারীরা বিভিন্ন রকমের পানীয় পান করে স্বস্তি লাভের চেষ্টা করছেন। শুধু পানীয় নয়, রয়েছে হরেক রকমের আইসক্রিমও। তার মধ্যে অন্যতম গোয়ালন্দের পাথর আলীর শেখের কুলফি মালাই। যার স্বাদ এবং মান ভালো বলে বেশ জনপ্রিয়।

গ্রীষ্মের এই তীব্র তাপদাহে গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কান পাতলে ভেসে আসে বিভিন্ন কুলফি মালাইয়ের বিজ্ঞাপন। তবে অন্যদের থেকে অনেকটা আলাদাভাবে বিক্রি হয় পাথর আলীর শেখের কুলফি মালাই। মানুষকে আকৃষ্ট করতে ডাকা হয় ভিন্নভাবে। যেভাবে ডাকা হয় 'মালাই খান কুলফি মালাই, মালাই খান, রাজভোগ চমচম বহু খেয়েছেন রশগোল্লা কাচাগোল্লা বহু খেয়েছেন এই বার কুলফি মালাই খান, মালাই কুলফি মালাই, বাংলার চমচম, বলে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ডাকা হয়। আর ভিন্নাভাবে মানুষকে ডাকা ও খেতে ভালো হওয়ায় চাহিদা রয়েছে অনেক।

গরমে কুলফি মালাই শব্দ কানে আসতেই অন্যরকম এক প্রশান্তি অনুভব করে ছোট-বড় সব শ্রেণির মানুষ। লাল রঙের কাপড়ে মোড়ানো সিলভারের পাতিলে দুধ, চিনি, এলাচ আর গরম মসলার মিশ্রণ করে টিনের কৌটায় ভরে বরফ ভর্তি করে দুই এক ঘণ্টা রেখে জমিয়ে বিক্রি হয় অমৃত স্বাদের এই কুলফি মালাই।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ বাজারে ওষুধ ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদকে কুলফি মালাই কিনতে দেখা যায়। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, এই গরমে পাথর আলী চাচার কুলফির জুড়ি নাই। বেশ মজা হয় বলে আমি প্রায়ই কুলফি মালাই খাই। পাথর আলী চাচার ছেলে শমশের আলী শেখ ভ্যানে করে এই কুলফি মালাই বিক্রি করেন।

গোয়ালন্দ বাজারে বাজার করতে আসা সাইম বিশ্বাসের সাথে কথা হয় দেশ রূপান্তরের। তিনি জানান, আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন পাথর আলী চাচার নারকেলের আইসক্রিম খেতাম ২ টাকায়। তার কুলফিও খেয়েছি অনেক। চাচা কুলফি বানান আর ওনার ছেলের শমশের আলী বিক্রি করেন। তাদের কাছে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা দামের কুলফি মালাই পাওয়া যায়। তবে দাম আগের থেকে এখন কিছুটা বেশি।

সুকুমার রায় নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এই গরমের আরাম কুলফি মালাই। দাম কত সেটা বিষয় না। চাচার বানানো কুলফি এক বার যে খাবে তাকে আবার খেতে হবে।

কথা হয় কুলফি বিক্রেতা শমশের আলী শেখের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি এই ব্যবসা শিখেছেন তার বাবার পাথর আলী শেখের কাছ থেকে। বাবা প্রায় ৪০ বছর নারকেলের আইসক্রিম ও কুলফি বিক্রি করেছেন। আমি বাবার সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর এই কুলফি বিক্রি করছি। এখনো বাবাই এই কুলফি বাসান, আমি ভ্যানে করে সারা গোয়ালন্দ উপজেলা বিক্রি করি। গরম বেশি হওয়ায় কুলফি বিক্রি বেড়েছে আগের থেকে অনেক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত