ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে নারী ও শিশু সমাবেশ করেছে ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, ভাষানী নারীমুক্তি কেন্দ্রসহ অনেক সংগঠন এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।
সমাবেশে সামনের সারিতে শিশুরা ফিলিস্তিনের সংহতির পক্ষে চিত্রাঙ্কন করে। এ সময় ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক এক হও, সাম্রাজ্যবাদ মানবতার শত্রু, গাজায় গণহত্যা বন্ধ করো ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড নিয়ে শিশুরা সমাবেশে অংশগ্রহণ করে।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গাজাবাসীর যে আর্তনাদ-কান্না, সেটি সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ। হিটলার নরপশুর থেকে অধম ছিল। কিন্তু তার অনুশোচনা ছিল। সেজন্য সে আত্মহত্যা করেছে। আজকে পৃথিবীতে নব্য হিটলারের দেখা দিয়েছে। রাশিয়ায় পুতিন, ইরাক ইঙ্গো-মার্কিন হামলায় জর্জ বুশ আর গাজা গণহত্যায় নেতানিয়াহু নব্য হিটলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তিনি বলেন, ছোট হিটলারদের অনুশোচনা নেই। তারা আর আত্মহত্যা করে না। বরং দর্পের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। তাদের কোনো বিষন্নতা নেই, আত্মোপলব্ধি নেই। হিটলারের বন্ধু ছিল গোয়েবলস। সে হিটলারের সকল মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রচার করত। এখনো নব্য গোয়েবলস বিদ্যমান আছে। তারা গাজার সহিংসতাকে যুদ্ধ হিসেবে দেখাতে চাইছে। অথচ এটি কোনো যুদ্ধ নয়, বরং নির্লজ্জ ও বিভৎস গণহত্যা।
তিনি আরো বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমেরিকায় ছাত্ররা আবার রাস্তায় নেমে এসেছে। ভিয়েতনামে যুদ্ধের সময় এইরকম ছাত্র বিপ্লব আমরা দেখেছিলাম। তারপরে ছাত্র বিপ্লব হারিয়ে গেছে। কেন হারিয়ে গেল? হারিয়ে গেল দুই কারণে। তার একটা কারণ হলো সমাজতন্ত্রীদের পতন হলো, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেল। সমাজতন্ত্রী ছাত্ররা পুজিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আরেকটা কারণ হলো, পুঁজিবাদীরা আরো দক্ষতা অর্জন করল, মানুষকে আরো চেপে ধরল। ফলে প্রতিবাদ করার যে শক্তি সেটি শেষ হয়ে গেছে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আজকের এ সংহতি সমাবেশ শুধু সমবেদনা নয়, এটি আমাদের পূর্ণ সমর্থন। এটি আমাদেরও যুদ্ধ। এ সংগ্রাম সেসব পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখান থেকে হিটলার জন্ম নেয়। এ যুদ্ধে পরাজয়ের কোনো স্থান নেই। এর পরাজয় মানে সভ্যতার মৃত্যু, মানুষ ও মানবতার মৃত্যু।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, নারী শিশুরা পৃথিবীর যেখানেই নিপীড়নের শিকার হচ্ছে সেখানে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ফিলিস্তিনে জায়নবাদীদের গণহত্যা চালানোর মধ্য দিয়ে মানবিক বিশ্বের ধারনা চুরমার হয়ে গেছে। যে মানবিকতার কথা এতদিন পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের বলতেন তারাই সে মানবিক বিশ্বের ধারনা চুরমার করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের নারী শিশুর বিরুদ্ধে যে অন্যায় হচ্ছে সেগুলো নিয়েও আমাদের কথা বলতে হবে। নারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু দেশের সব জাগায় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। নিপীড়ক যেখানেই থাকুক তার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
ফিলিস্তিনি সংহতি কমিটি বাংলাদেশের সদস্য হারুন অর রশীদের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ভাসানী নারী মুক্তি কেন্দ্রের আহ্বায়ক সোনিয়া আকতার, কমিউনিস্ট পার্টির পেসিডিয়াম সদস্য ও নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষী চক্রবর্তী, নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শিল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি সম্পা বসু প্রমুখ।
বৃষ্টিতে বন্ধ বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ
গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে চড়ে বউ আনলেন পোশাক শ্রমিক
কাল থেকে ট্রেনে বাড়তি ভাড়া, কোন রুটে কত