মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব: একাত্তরের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি দাবি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি সভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মতো নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডম্যান।

প্রস্তাবে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘোষিত অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা নৃশংসতা চালায়। সে সময় সব ধর্মের জাতিগত বাঙালিরা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। তখন হিন্দুদের নির্মূল করা হয়েছিল। তাদের গণহত্যা করা হয়েছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যা। এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আগেই গণহত্যার তকমা দেওয়া উচিত ছিল।

প্রস্তাবে গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করা ও স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি; যাতে ভুক্তভোগীদের স্মৃতি রক্ষা করা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা রোধ করা সম্ভব হয়।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে চারটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর চালানো বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানানো, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থি সহযোগীরা নির্বিচারে বাঙালি হত্যা, বুদ্ধিজীবী নিধন এবং নারীদের যৌনদাসী হিসেবে আটকে রাখলেও মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘নির্মূল’ করার জন্য বিশেষ লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল বলে স্বীকার করা, কোনও একটি জাতি বা ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের কোনও সদস্যের কৃত অপরাধের জন্য য়ে দায়ী নয় তা পুনর্ব্যক্ত করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর চালানো এই নৃশংসতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’, ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত