১৯৯৫ সালে মাত্র ৫ বছর বয়সে ডর্টমুন্ডের যুব দলে যোগ দেন মার্কো রয়েস। ৯ বছর যুব দলের হয়ে খেলার পর ২০০৪ সালে ডর্টমুন্ড ছাড়েন এই তারকা। এরপর কয়েকটি দলের হয়ে খেলার পর ২০১২ সালে ডর্টমুন্ডের সিনিয়র দলে যোগ দেন তিনি। হলুদ জার্সিধারীদের হয়ে এরপর থেকে টানা ১২ বছর খেলছেন তিনি। অবশেষে ভাঙতে চলেছে সেই সম্পর্ক।
চলতি মৌসুমের পর রয়সের সঙ্গে চুক্তি আর বাড়াচ্ছে না ডর্টমুন্ড। দুই পক্ষের আলোচনার প্রেক্ষিতেই নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ক্লাব রয়সের বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। মৌসুম শেষে ফ্রি এজেন্ট হয়ে ক্লাব ছাড়তে যাচ্ছেন জার্মানির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রয়েস।
শুক্রবার আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রয়েসের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডর্টমুন্ড। একটি ভিডিও বার্তায় ভক্তদের বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন রয়েস নিজেই। ভিডিওতে ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই ডর্টমুন্ড কিংবদন্তি।
বিদায় প্রসঙ্গে মার্কো রয়েস বলেন, 'বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে এই অসাধারণ সময় কাটাতে পেরে আমি গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ। আমি আমার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ডর্টমুন্ডে কাটিয়েছি এবং কঠিন সময় আসলেও প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করেছি। মৌসুম শেষে বিদায় জানানোটা যে নিঃসন্দেহে কঠিন হবে সেটা আমি জানি। তবে গোটা বিষয়টা নিয়ে আর কোনো জটিলতা নেই, এটা খুবই ভাল বিষয়। মৌসুমে শেষের দিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ রয়েছে এবং আমরা বড় কিছু জিততে পারি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে সমর্থনের জন্য সকল সমর্থককে অসংখ্য ধন্যবাদ।'
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী রয়েস। তার সঙ্গে খেলা অনেক সতীর্থই ডর্টমুন্ড ছেড়ে গিয়ে এখন ইউরোপের নামিদামি ক্লাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সবাই চলে গেলেও বিশ্বস্ত সঙ্গীর মতো থেকেছেন রয়েস। ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হ্যানস-জোয়াকিম ওয়াটৎজ বলেছেন, ‘মার্কো ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। সে ডর্টমুন্ডেই জন্মেছে, আমাদের একাডেমিতে কাটিয়েছে ১০ বছর। মূল দলে খেলেছে ১২ বছর। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে তাঁর বন্ধন অসাধারণ। আমরা মার্কোর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আশা করি, অবসর নেওয়ার পর সে ডর্টমুন্ডে ফিরবে, কারণ ভূমিকা রাখার মতো প্রচুর জায়গা তার জন্য আছে এখানে।’
ডর্টমুন্ডের হয়ে ৪২৪ ম্যাচে খেলেছেন রয়েস। তাতে ১৬৮ গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ১২৮টিতে। বরুশিয়ার হয়ে দুটি জার্মান কাপ এবং তিনটি জার্মান সুপার কাপ জিতেছেন রয়েস।
