সংবাদ প্রকাশের জেরে ভোলার বোরহানউদ্দিনের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক ভোলা টাইমসের দৌলতখান প্রতিনিধি সাংবাদিক জুয়েলের ওপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল রাত সাড়ে ১০ টার সময় ভোলার বোরহানউদ্দিনের কুড়ালিয়া ৪নং ওয়ার্ডের ঈদখোলা নুরিয়া মাদ্রাসার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র, হকি স্টিক, রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত সাংবাদিক বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম ফরিদ মাষ্টারের নেতৃত্বে সাইফুল ইসলাম মোল্লা, ফিরোজ মোল্লা, আশরাফুল ইসলাম মোল্লা, মমিন গাজি সহ আরো ৪-৫ জন এই হামলা চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, নগদ টাকা, মোবাইলসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। তাদের হামলায় তার দু’পা ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও চোখ তুলে ফেলার চেষ্টা করেন। বর্তমানে ওই সাংবাদিক বরিশাল শেরেবাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাংবাদিক জুয়েল জানান, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে দৌলতখান উপজেলার নুরমিয়ার হাট বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে বাইক চালিয়ে যাওয়ার পথে ঈদখোলা মাঠের কাছে পৌঁছালে বাইক থামিয়ে প্রথমে সন্ত্রাসীরা তাকে উদ্দেশ্যে করে বালি নিক্ষেপ করেন। পরে পিছন থেকে রড, হকি স্টিক দিয়ে আঘাত করলে রাস্তায় পরে যাই। এ সময় তারা হাত-পা বেঁধে, মুখের ভিতরে কাপড় দিয়ে রড, হকি স্টিক ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে গুম করে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
এ সময় তার সাথে থাকা দশ হাজার টাকা, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, মোবাইল সহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিয়ে যায়। তারা বলেন, সাংবাদিক হয়ে এসব নিউজ করতে বলছে কে? এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তোকে মেরে ফেলা হবে। এবার মানুষের জন্য বেঁচে গেলেও পরবর্তীতে কেউ তোকে বাঁচাতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মার্ডারের নিউজ করায় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালায় বলে তিনি জানান।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির জানান, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এমন ঘটনা জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
