ফ্ল্যাটের ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে

আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ০৪:১৯ এএম

সংঘবদ্ধ ফ্ল্যাট জালিয়াতি চক্রের মাস্টারমাইন্ড জয়নাল আবেদীন ওরফে ইদ্রিসসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। চক্রটি এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা লোন নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তদন্ত সংস্থাটি বলছে, তারা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিন নম্বর তৈরি করে রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তৈরি করত ফ্ল্যাটের ভুয়া দলিল। এরপর এসব ভুয়া দলিল বিভিন্ন ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে মোটা অঙ্কের লোন নিত। এতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অসাধু ব্যাংকার জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগের সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ইদ্রিসের প্রধান সহযোগী মো. রাকিব হোসেন, এ চক্রের সদস্য জয়নালের ভায়রা ভাই কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, জাল কাগজপত্র ও এনআইডি প্রস্তুতকারক মো. লিটন মাহমুদ, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল প্রস্তুতকারক হাবিবুর রহমান মিঠু, এনআরবিসির ব্যাংক কর্মকর্তা হিরু মোল্যা, আব্দুস সাত্তার ও সৈয়দ তারেক আলী। অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিলমোহর, একই ব্যক্তির একাধিক এনআইডি ও টিন নম্বর, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডসহ নগদ ৩ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

সিআইডি অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, এ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূলহোতা জয়নাল আবেদীন ইদ্রিস। তার চক্রের সদস্যরা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ক্রেতা হিসেবে হাজির হন। ফ্ল্যাট কেনার জন্য শুরুতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বায়না করেন। এরপর ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের কথা বলে মালিকের কাছ থেকে দলিল এবং অন্যান্য কাগজপত্রের কপি সংগ্রহ করেন। ফ্ল্যাটের মালিকের কাছ থেকে নেওয়া দলিল এবং অন্যান্য কাগজপত্রের তথ্য নিয়ে ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু লোকদের মাধ্যমে তৈরি করেন জাল দলিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত