ইসরায়েলের বিপক্ষে ছাত্রলীগের কর্মসূচি

আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ০৮:৩০ পিএম

প্রায় সাত মাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি। সেখানে দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি ইসরায়েল এবং দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহকারী মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অনুদান নেওয়া বন্ধের দাবিতে সমাবেশ, মিছিল ও অনশন করছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এসব কর্মসূচিতে ব্যাপকভাবে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে হাজারো শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীকে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এতো অভিযান, ধরপাকড় ও দমন-নিপীড়নেও দমছে না ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন। বরং, নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় বিক্ষোভের এ ঢেউ আছড়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোড়ন তুলতে শুরু করেছে এই আন্দোলন। অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান, কানাডা, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হচ্ছে। সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে ভারতেও। লন্ডন, প্যারিস ও রোম থেকে সিডনি, টোকিও, নয়াদিল্লি, বৈরুতসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই- ‘গণহত্যা বন্ধ হোক’।

চলমান এই আন্দোলনে এবার একাত্মতা পোষণ কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এ সময় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা দাহ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের সব ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ছে এই আন্দোলন। 

সোমবার (৫ মে) দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়া প্রত্যেক ক্যাম্পাসে পদযাত্রা এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রলীগের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ র‍্যালি নিয়ে শাহবাগ মোড় থেকে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ইসলাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর কুশপুত্তলিকা দাহ করে সমাবেশ সমাপ্ত করেন। 

এসময় শিক্ষার্থীরা- 'ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সী, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রী'; 'ওয়ান, টু, থ্রী, ফোর, অকোপেশান মোর'; 'ফাইভ, সিক্স, সেভেন, এইট, ইসরায়েল টেররিস্ট'; 'ইসরায়েলের দোসররা, হুঁশিয়ার সাবধান' ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন- ইত্যাদি স্লোগান দেন এবং  পৃথিবী জুড়ে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে, মানবতার পক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সমাবেশে ফিলিস্তিনি মানুষ ও আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, আজকের এই সংহতি সমাবেশে শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি জানান দেয় বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের মানুষের জন্য কতটা মর্মাহত। এ পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনের ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবর থেকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চলছে, সারা বিশ্বের মানুষ তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে, ইসরায়েলের বিরোধীতা করছে৷ এটা শুধু ফিলিস্তিনের পক্ষের লড়াই নয় বরং এটা সারা বিশ্বের আর্ত মানবতার জন্য লড়াই।

ইসলামিক স্টডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এ বি জোবায়ের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আসছে। এই ইসরায়েল নামক রাষ্ট্রের নামের কোনো অস্তিত্ব ছিলো না, তারা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জায়নবাদের দোষরদের মুখে থুতু নিক্ষেপ করি। আমরা চাই অতি দ্রুত এই ফিলিস্তিনি মানুষের উপর বর্বরোচিত হামলা সমাপ্ত হোক এবং এর সাথে জড়িতদের বিচার করা হোক। আমরা বিশ্ব শান্তি চাই। আমরা এমন বর্বরোচিত হামলা দেখতে চাই না।

আইন বিভাগের শিক্ষক নকিব নাসরুল্লাহ বলেন, নেতানিয়াহু এবং এই যুদ্ধের সরাসরি মদদদাতা বাইডেন যুদ্ধাপরাধী৷ আমরা আমেরিকার মানুষের বিরুদ্ধে না। কিন্তু আমরা বলতে চাই, ‘নেতানিয়াহু ইজ অ্যা ওয়ার ক্রিমিনাল, বাইডেন ইজ অ্যা ওয়ার ক্রিমিনাল’। ফিলিস্তিনের পক্ষে পুরো বিশ্বে আন্দোলন যে শুরু হয়েছে, বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলেনে শরিক হওয়া উচিত। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের সকল চক্রান্ত শেষ হবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন, পদযাত্রা ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সোমবার সকাল ১১টায় দেশের সব শিক্ষাপাতানে একযোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তারা।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ন্যায্যতা, ন্যায়, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি ও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থী সমাজ, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা যে আন্দোলনের সূচনা করেছেন, তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

তিনি বলেন, গোটা পৃথিবীতে ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি ছাত্র আন্দোলন চলমান রয়েছে। সে ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সংহতি জানানোর জন্য আগামীকাল থেকে জোরদার ছাত্র আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছি। আগামীকাল সকাল ১১টায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন, পদযাত্রা এবং সংহতি সমাবেশ সফল করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। 

আগামীকালের এই কর্মসূচি শুধুমাত্র ছাত্রলীগের কর্মসূচি নয়, এটি দেশের সকল শিক্ষার্থীর কর্মসূচী, বিশ্বের সকল মুক্তিকামী মানুষের কর্মসূচি। আমরা একসঙ্গে আওয়াজ তুলব ফিলিস্তিনের উপর গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত