বেরোবিতে দু-মাস ধরে নেই বিভাগীয় প্রধান, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ মে ২০২৪, ১১:৪১ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৫ জুন) সকাল থেকে বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ ও নিজেদের পরীক্ষা নিয়ে সেশনজটের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন করতে থাকে।

জানা যায়, গত মার্চ মাসের ১০ তারিখে সাবেক বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধান নেই বিভাগটিতে। এজন্য ক্লাস ও কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট শেষ হলেও ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। ফলে নানাবিধ সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের। 

আরো জানা যায়, বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব জ্যৈষ্ঠতা অনুযায়ী সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধানকে না দিয়ে আইনি জটিলতার কারণ দেখিয়ে জ্যৈষ্ঠতা ভেঙ্গে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহারকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং পরে তিনি অপারগতা জানালে পর্যায়ক্রমে সহকারী অধ্যাপক সারোয়ার আহমেদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. রহমতুল্লাহকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিলে তারাও অপারগতা জানায়। ফলে বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের জটিলতা আরো তীব্র হয় এবং প্রায় দু-মাসে পেরিয়ে গেলেও এ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও জানা যায়, একই বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাহামুদুল হকের করা গত ১৪ মার্চ ২০২২ এ হাইকোর্টের রীট মামলার জারিকৃত রুল ও আদেশের প্রেক্ষিতে এবং মাহামুদুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে ইউজিসি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে এটিকে কারণ দেখিয়ে জ্যৈষ্ঠতা নির্ধারণে জটিলতার বিষয় হিসেবে দেখায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা প্রায় দু'মাস থেকে এভাবে বিভাগীয় প্রধান ছাড়া থেকে নানাভাবে দুর্ভোগে পড়ছি, এখানে থাকা খাওয়ার আলাদা খরচ হচ্ছে, কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারছি না, কোথাও যেতে পারছি না যে কখন কোন সিদ্ধান্ত হয়, মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছি। এমতাবস্থায় এমন দোটানার মধ্যে থেকে সেশনজটে পড়ে যাচ্ছি।

বিভাগের ৪র্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের ব্যাচমেটরা যেখানে এবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে দিলো সেখানে আমরা কবে নাগাদ চাকরির আবেদন করতে পারব সেটাও জানিনা। গত ১৫ এপ্রিল থেকে আমাদের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ ছিল সেখানে মাস পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনি জটিলতার কারণে জ্যৈষ্ঠ শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধান দেয়া হয়নি। তবে তিনজন শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দিলেও তারা নেইনি ফলে এ জটিলতা তৈরি হয়। দ্রুত এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসবে। 

এ বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর বেলাল উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত