আগামী বাজেটে এডিপি ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ০৭:৩৮ পিএম

দেশের অর্থ সংকটের চাপ পড়েছে উন্নয়ন বাজেটের গতিতে। আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু অর্থ বিভাগ অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে তা অনুমোদন করেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। শতাংশের বিচারে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ। তবে এবার বিদ্যুৎ, যোগাযোগে কিছুটা বরাদ্দ কমিয়ে বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে।

আজ মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ওপর বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম। সভাসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সভাসূত্রে জানা যায়, আগামী বাজেটে প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রাধিকার পেয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাতগুলোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা যা মোট এডিপির ১৫ শতাংশ। অথচ গত বছর এ খাতের বরাদ্দ ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বর্তমান সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছিল যোগাযোগের অবকাঠামো খাত ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প। গত ফেব্রুয়ারিতে পরিকল্পনা কমিশনের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয় এসব খাতে বরাদ্দ কমিয়ে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে হবে। সে সিদ্ধান্তের কিছুটা প্রভাব পড়েছে প্রস্তাবিত এডিপিতে। 

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত বছর তা ছিল ২৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও বরাদ্দ কমিয়ে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে এবারের বরাদ্দ ৪০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ থাকা ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ধরা হয়েছে।

তবে এ দুই বড় খাতে বরাদ্দ কমানো হলেও বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে। আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা ৩১ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে এ খাতের বরাদ্দ ছিল ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বেড়েছে। এ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। এটি মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে তা ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রস্তাবিত এডিপিতে খাদ্য নিরাপত্তাকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ, শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য কমানোর প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি নিরোধের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবুজ ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা সম্পর্কিত প্রকল্পে বিশেষ অগ্রাধিকারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এডিপিতে অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, খাদ্য ও জলবায়ুকে মূল অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা ঠিকই আছে, তবে শিক্ষা খাতকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা উচিত ছিল।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেহেতু সরকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে প্রায় পুরোটাই ঋণ করে। বিদেশি ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণ মিলে চাপ আরও বেশি। সে হিসেবে এবারের এডিপি কমিয়ে ধরা যৌক্তিক। তবে এগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত