সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পাউবোর সেই দুই প্রকৌশলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ০৭:৫০ পিএম

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ঠিকাদারের থেকে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে দুদক। প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত ৫ মে দুদকের পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সুত্রধর বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানা (২৯), মোশাররফ হোসেন (৪২), উপসহকারী প্রকৌশলী রাজিব হোসাইন (৩৫), ফরিদুল ইসলাম (৩০), ফরহাদ হোসেন (৩১) ও আল রাফি কনস্ট্রাকশনের সত্ত্বাধিকারী আরিফুজ্জামান রাজিব (৩৮)।

এ মামলার তদন্তদায়ভার দেওয়া হয়েছে দুদকের পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ সহকারী পরিচালক মোক্তার হোসেনকে। প্রাথমিক তদন্তে ঠিকাদার রাজিবের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনে ওই পাঁচ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে।

দুদক পাবনা জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. খাইরুল হক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। ঘুষ লেনদেন ও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল পাবনা পাউবোর কার্যালয়ে ঠিকাদারদের সাথে অবৈধ টাকা লেনদেনের সময় নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ পুলিশের কাছে আটক হন পাউবোর দুই প্রকৌশলী মাসুদ রানা ও মোশাররফ হোসেন। এ সময় ঠিকাদার রাজিব (স্থানীয় সাবেক কমিশনার) ও কনকসহ কয়েকজন পালিয়ে যান। এর পরদিন দুপুরে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। এরপর গত ২৫ এপ্রিল মাসুদ রানা ও মোশাররফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সুনামগঞ্জের হাওড়ে বাধ নির্মাণকাজে দুর্নীতির দায়ে একাধিকবার প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনের তত্তাবধানে প্রকৌশলী মাসুদ রানা ও মোশাররফের সহযোগিতায় ডিপিএম ও আরএফকিউ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মাসাত করা হয়েছে। আল রাফি কন্সট্রাকশনের সত্ত্বাধিকারী ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব এবং ঠিকাদার কনকের প্রতিষ্ঠানের নামে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এসব তদন্তে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত