কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপকূলে লবণবাহী অন্তত ২০টি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন ট্রলারে থাকা জীবিত ৩৪ জন মাঝিমাল্লা ও ৪টি ট্রলার উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ মে) সকাল ৮টার দিকে বঙ্গোপসাগরের আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন সকালে কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও বাঁশখালী এলাকা থেকে লবণ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঝড় ও ঢেউয়ে আটকে পড়ে বেশ কয়েকটি ট্রলার৷ এ সময় প্রচণ্ড দমকা হাওয়ায় উল্টে সাগরে ডুবে যায় লবণবাহী ট্রলারগুলো।
পরে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ পর্যন্ত ৪টি ট্রলার ও ৩৪ জন মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাঝিমাল্লারা হলেন, বাঁশখালী উপজেলার আল্লাহর দান ট্র্রলারের মো. জিয়া মাঝি, মো. আলী, মো মানিক, মো. সোহেল, মো. মনচুর, জাবেদ আহমদ, কুতুবদিয়া উপজেলার তৌফিক এলাহী ট্রলারের মাঝি মো. মানিক, নুরুল আমিন, মো. আনিস, বার আউলিয়া ট্রলারের মাঝি মো. ফারুক, বদি আলম, আবু হানিফ ও আবু তৈয়বসহ অন্তত ৩৪ জন।
গহিরা বার আউলিয়া নৌ পুলিশের ইনচার্জ টিটু নাথ বলেন, আনোয়ারা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে বেশ কয়েকটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চারটি ট্রলারও চিহ্নিত করা হয়। ট্রলারগুলো কূলে আনার কাজ চলছে। এছাড়া কোস্টগার্ডও আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে।
বারো আউলিয়া ট্রলারের মাঝি ফারুক জানান, কুতুবদিয়া থেকে আসার সময় সকালে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে ট্রলার উল্টে ডুবে যায়। আমাদের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০টির মতো ট্রলার ডুবে গেছে। প্রতিটি ট্রলারে ৫ থেকে ৭ জন মাঝিমাল্লা ছিল।
নৌ পুলিশ সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.একরাম উল্লাহ বলেন, বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হলে ট্রলারগুলো উল্টে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা এখন পর্যন্ত ৩৪ জনকে উদ্ধার করেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারের সংখ্যা অন্তত ২০টি। প্রতিটি ট্রলারে ৫ থেকে ৭ জন মাঝি-মাল্লা ছিল। সব মিলিয়ে এখনো অন্তত ৫০ জন মাঝি-মাল্লা নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
