শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘরও ভাংচুর করা হয়। গতকাল বুধবার বিকেল ও রাতে উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের ডগ্রী বাজার ও মাদবর কান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন— উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার (৬০), মাহবুব ফকির (৩৫), নুরুজ্জামান হাওলাদার (৪৫), আব্দুর রহমান ঢালী (২৫), লুৎফা বেগম (৫৫), মাহিম মাদবর (১০)। আহত বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল (৮ মে) নড়িয়া উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে একেএম ইসমাইল হক মোটরসাইকেল প্রতীক ও মামুন সিকদার ঘোড়া প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দ মিছিল বের করে মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকরা। এর জের ধরে বিকেল ও রাতে মামুন সিকদারের সমর্থক নশাসন ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ও তাঁর লোকজনের সঙ্গে ইসমাইল হকের সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদারসহ দুই পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা দেলোয়ার, মাহবুব ও নুরুজ্জামানকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। পরে উভয় পক্ষের ১০/১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।
বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থক আনোয়ার হোসেন লিটন হওলাদার বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী একেএম ইসমাইল হক বিজয়ী হওয়ায় আমরা আনন্দ মিছিল বের করি। মিছিলটি ডগ্রী বাজারে গেলে দেলোয়ার চেয়ারম্যানের লোকজন মিছিলে বাঁধা দেয় এবং ইট পাটকেল মারা শুরু করে। এ সময় আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহবুব ও নুরুজ্জামানকে ঢাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আমাদের জাহাঙ্গীর মাদবর, হাবিব মাদবর, হাসান মাদবরসহ ১০/১৫টি ঘরে ভাংচুর চালায় দেলোয়ার তালুকদারের লোকজন।
এদিকে, উপজেলা পরিষদের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুন সিকদার (ঘোড়া প্রতীক) বলেন, ইসমাইল হকের সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে, পরে আমার সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদারের বাড়ি ভাংচুর করে। এছাড়া তারা দেলোয়ার হোসেন তালুকদারসহ ৩/৪ জনকে হামলা করে আহত করেছে।
নড়িয়া থানার তদন্ত (ওসি) আবির হোসেন বলেন, ওই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও মামলা হয়নি।
শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
