শরীয়তপুরে চোর সন্দেহে পিটিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

চোর সন্দেহে গনপিটুনিতে ৩৫ বছর বয়সি অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গনপিটুনির ঘটনাটি শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গাইরা এলাকায় ঘটে। দুপুর ১টার দিকে ওই যুবক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

পুলিশ ওই যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি। তার সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) পাওয়া যায় নি। পিবিআই এর একটি দল ওই যুবকের মরদেহ হতে আঙ্গুলের ছাপ নিয়েও পরিচয় নিশ্চিত হতে পারে নি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমান আলী মোল্যা ভ্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুক্রবার ভোর রাতের দিকে এক ব্যক্তি তার ভ্যান গাড়িটি চুরির করার জন্য ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এমন অবস্থা টের পেয়ে ইমানের বাড়ির লোকজন চিৎকার দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। তখন স্থানীয়রা ৩৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা আহত ওই যুবককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে রেখে যান। পরে দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবক মারা যায়।

আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিফ মোল্লা বলেন, ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় স্থানীয় জনতা এক ব্যক্তিকে আটক করেন। উত্তেজিত ব্যক্তিরা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর করেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার  বলেন, দুপুর ১২টার দিকে কয়েক ব্যক্তি সংকটাপন্ন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। আমরা তার চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। হাসপাতালে ভর্তির এক ঘন্টার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ভ্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি চুরি করতে যাওয়ার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গনপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে জরুরী সেবার ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার পরিচয় সনাক্ত করা যায় নি। পরিচয় সনাক্তের জন্য পিআইবি লাশের আঙ্গুল হতে কয়েক দফায় ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়েছে। কিন্তু তাতে কিছুই সনাক্ত হয়নি। হয়তো নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। 

তিনি জানান, পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। পরিচয় জানার পর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত