'বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে মানুষের জন্য ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে সফল হলেও গবাদি পগুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। উন্নত জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সমান জরুরি। কারণ পরিবেশ এবং প্রাণীদেহ থেকে নানা ধরনের রোগ মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ে।'
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট মিটিং-০৪: ওয়ান হেলথ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট চকরিয়া, কক্সবাজার’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় উপস্থিত বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসএআইডি'র অর্থায়নে লাইভস্টক অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাক্টিভিটি, ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বাস্তবায়িত ওয়ান হেলথ পাইলট কর্মসূচির ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য, গবাদি পশুর সুরক্ষা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ তথা পরিবেশের সুরক্ষা-এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তঃসম্পর্ক তৈরির নামই হলো ‘ওয়ান হেলথ’ বা এক স্বাস্থ্য। এ ব্যাপারে সবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিভিন্ন অপরিহার্য। সেজন্য ওয়ান হেলথ পদ্ধতির অংশগ্রহণমূলক কৌশলটি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ওয়ান হেলথ বা এক স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যা মানব, প্রাণী এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্যের আন্ত সম্পর্কের উন্নয়ন করে। এক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে এবং টেকসই অনুশীলনগুলোর উন্নয়নের জন্য সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ প্রয়োজন।
ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশের জাতীয় গবেষণা ব্যবস্থাপক ড. রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ওয়ান হেলথ কিংবা সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মানুষের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না। আমাদের সবার উদ্দেশ্য হলো মানুষের স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দেওয়া। এটা করতে হলে এনিমেল, এনভাইরনমেন্ট এবং ভেটেনারি সেক্টর-এই তিনটি হলো ওয়ান হেলথের মূল উপাদান। এগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের মানুষ তথা বিশ্বকে বাঁচাতে হবে। প্রাণী থেকে মানবদেহে যেসব রোগ ছড়ায় সেগুলো কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেজন্য মানুষকে সচেতন করাই আমাদের মূল উদ্দ্যেশ্য। এটা নিয়ে গবেষণা করছি আমরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১২টি উপজেলায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও সচেতন করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে শিক্ষক, ইমাম, পরিবেশকর্মী এবং অন্যদের সঙ্গেও কাজ করছি।’
এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রেজাউল হক, ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়েট জোবাইদা খানম প্রমুখ।
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন
বন্ধ হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের অনুমোদনহীন ক্যান্টিন-ফার্মেসি
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা দিলেন এমপির স্ত্রী