সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভিসা জটিলতা কাটেনি ৯ হাজার হজযাত্রীর, দায় কার?

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৮:৩৩ পিএম

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের ফ্লাইট। হজের ফ্লাইট চালুর পঞ্চম দিনেও ৯ হাজার ৩৭৭ জন হজযাত্রীর ভিসা কার্যক্রম শেষ হয়নি। এর জন্য এজেন্সিগুলোকে দায়ী করছেন হজ অফিসের পরিচালক। তবে হজ কার্যক্রমের শুরু থেকেই মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে আসছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি। আসলে হাজীদের ভিসা না হওয়ায় দার কার? সেই প্রশ্নের উত্তরে একে অপরকে দোষারোপ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা।

এজেন্সি মালিকদের অভিযোগ, অতীতে বাড়ি ভাড়ার জন্য এজেন্সিগুলোকে মোনাজ্জেম ভিসা দেওয়া হতো। কিন্তু এবছর সেই সুযোগ দেইনি সৌদি সরকার। ফলে অনেক এজেন্সি বাড়ি ভাড়া করতে পারেনি। ফলে ভিসা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এদিকে সমস্যা সমাধানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়েও আমরা পাইনি। তাই ভিসা জটিলতা এখনো কাটেনি।’ 

এদিকে হজ অফিসের পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, হজ যাত্রীদের ভিসা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ভিসা ইস্যুর সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। যাদের ভিসা হয়নি তারা সবাই বেসরকারিভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনো এজেন্সির গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারিভাবে নিবন্ধিত কারও ভিসা এখন আর বাকি নেই।

তিনি আরও বলেন, ভিসা ইস্যুর মেয়াদের বিষয়ে সৌদি সরকারের অফিসিয়াল পত্র না পেলেও ভিসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফ্লাইট শুরুর পরেও ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। হজযাত্রীদের ভিসা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্যমতে, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ভিসা ইস্যু হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৯৯ জন হজযাত্রীর। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯২ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৬ শতাংশ হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়েছে। তবে আশকোনা হজ অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, এখনো পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৭৭ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়নি। তবে দু’তিন দিনের মধ্যে তাদের ভিসা কার্যক্রম শেষ হবে।

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, ভিসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি ঘণ্টায় ভিসা ইস্যু হচ্ছে। দুই দিনের মধ্যে হয়তো বাকী হজযাত্রীদের ভিসা ইস্যু হয়ে যাবে। এতে দুশ্চিতার কিছু নেই। যারা নিবন্ধন করেছেন সবাই হজে যেতে পারবেন।’ 

হজ অফিসের তথ্যমতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১২ হাজার ৬৪৯ জন। মোট ৩২টি ফ্লাইটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৮ হাজার ৯০২ জন। 

চলতি মৌসুমে হজের নিবন্ধন শুরু হয় গত বছর ১৫ নভেম্বর, যা ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। এ সময়ের মধ্যে হজে গমনেচ্ছুদের প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় সময় বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাতেও কোটার অর্ধেকও পূরণ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতেও প্রত্যাশিত কোটা পূরণ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ১ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

এবছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬২ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে ৮০ হাজার ৬৯৫ জনসহ মোট ৮৫ হাজার ২৫৭ জন হজ করতে যাবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত