রাজধানীর মহাখালী থেকে বনানী এক সময় আন্তঃজেলার বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার পর যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করত। এর ফলে এই সড়কে আন্তঃজেলা বাসের কারণে যানজট লেগেই থাকত। কিন্তু এই গাড়িগুলোকে মাঝপথে যাত্রী নিতে নিষেধ করা হযেছে। যাত্রী নিলেই মামলার শিকার হতে হচ্ছে বাসগুলোকে। যার জন্য আগের থেকে কিছুটা যানজট কমেছে এই সড়কে।
সরেজমিন সোমবার মহাখালী থেকে বনানী গেলে দেখা যায়- বেশিরভাগ আন্তঃজেলার গাড়ি মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত গেট বন্ধ রাখছে। তবে সিটির অন্য গাড়ি ঠিকই যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই রুটে এই সিস্টেমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকা পর্যন্ত আন্তঃজেলা বাসগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে পারবে না। গেটলক চেকিং সিস্টেমে টার্মিনাল থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া আর কোথাও দাঁড়াতে পারবে না। টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে কাকলী, কুর্মিটোলা, খিলক্ষেত ও সর্বশেষ আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে চলে যাবে। যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও জানা যায়, মহাখালী থেকে বাস ছাড়ার আগে যাত্রীদের তালিকা, চালকের নাম, গাড়ির নম্বরসহ একটি প্রস্থানপত্র দেওয়া হচ্ছে। বাস কাকলীতে যাওয়ার পর পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, তালিকা অনুযায়ী যাত্রী আছে কি না। বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করছে ট্রাফিক পুলিশ। পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও বিষয়টির দেখভাল করছেন। যেসব চালক আইন মানছেন না পরিবহন নেতারা তাদের শাস্তি স্বরূপ একদিন গাড়ি চালানো বন্ধ রেখে দিচ্ছেন। সোমবার বিকাল পর্যন্ত ৩টি গাড়ির চালককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। বনানী রেললাইনের পাশে বাস মালিক সমিতি থেকে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এই চেকপোস্টের মাধ্যমে মহাখালী থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো কতজন যাত্রী নিয়ে আসছে সেগুলোর চেক করা হয় এই পোস্টে।
এস আই এন্টারপ্রাইজ নামের মহাখালী থেকে সিরাজগঞ্জ রুটে চলা মোশাররফ নামের এক চালক চারজন যাত্রী নিয়ে এসেছেন বনানী চেক পোস্টে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো নিষেধ আছে। তাই মাত্র চারজন যাত্রী নিয়ে চলে এসেছি স্ট্যান্ড থেকে। আগের মতো যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো বন্ধ আছে বলে জানান এই চালক।
তার ঠিক পাঁচ মিনিট পর আলম এশিয়া নামের ময়মনসিংহ রুটে চলা আরেক চালক ইব্রাহিম জানান, গতকাল থেকে নতুন এই সিস্টেমে আমরা গাড়ি চালাচ্ছি। মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত যানজট নিরসনের জন্য মূলত এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
এদিকে মো. তুহীন নামের এক যাত্রী বলেন, টার্মিনাল থেকে বনানী পর্যন্ত বাসে কোনো যাত্রী উঠানো হয়নি। তবে আন্তঃজেলা পরিবহনগুলো যাত্রী না উঠালেও অন্য সিটি পরিবহন যত্রতত্র যাত্রী উঠানোর ফলে সড়কে আগের মতোই যানজট ছিল। তাই নতুন সিস্টেম এই রুটের সব বাসগুলোর ওপর করা হলে ভালো হত। তাহলে যানজট কমে যেত।
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত যানজট নিরসনের জন্য মূলত এই নতুন সিস্টেম চালু হয়েছে। কারণ আগে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া সব বাস বনানী পর্যন্ত যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করত। এর ফলে যানজট লেগেই থাকত। তাই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক-গুলশান বিভাগের (মহাখালী জোন) সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত যানজট নিরসনের জন্য আন্তঃজেলা বাসে নতুন এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫টির বেশি গাড়িকে জরিমানা করা হয়েছে। সবাই মিলে এক সাথে কাজ করলে নতুন এই সিস্টেমের ফলে সড়কে যানজট কমবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ দেখে পালালেন ইয়াবা কারবারি, ধরা খেলেন স্ত্রী
ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
জ্বালানি দক্ষতা বাড়ালে এলএনজি আমদানিতে সাশ্রয় ৪৬০ মিলিয়ন ডলার