শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নিবন্ধনবিহীন অনিরাপদ সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধের আহ্বান

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৮:০১ পিএম

দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সফটওয়্যার বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা দ্য সফটওয়্যার এলায়ন্স বা বিএসএ।

নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএসএ এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক তরুণ সাওনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার তথ্য নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। যার ফলে সম্ভাব্য সাইবার আক্রমণ, তথ্য চুরি ও ম্যালওয়্যার আক্রমণের শঙ্কা বেড়ে যায়। এসব ঘটনা গ্রাহক, অংশীদার ও সহযোগীদের বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট করতে পারে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। এটি যেকোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনি ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি সুনাম ক্ষুণ্ণের কারণও হতে পারে। এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনও বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়িত্ব হলো-তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ, সুরক্ষিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে আইন মেনে চলছে কি না তা নিশ্চিত করা।

নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যার ব্যবহার করার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সামনে উঠে আসে যখন সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় ডেটা সেন্টার স্টোরেজ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, ফায়ারওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আপডেট ইনস্টল করতে না পারার মতো একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। এই সমস্যাগুলো তৈরি হওয়ার জন্য বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহকৃত নিবন্ধনবিহীন সফটওয়্যারের ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছিল যা মূলত আইন মেনে না চলার পরিনতিকেই নির্দেশ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক খাতে ব্যবহৃত বৃহৎ ভলিউমের সফটওয়্যারগুলো যাতে বৈধভাবে ব্যবহার করা হয় তার জন্য বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির মতো সরকারি সংস্থার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসএ।

তরুণ সাওনি বলেন, সাইবার আক্রমণ থেকে সারা বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখার জন্য ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ লাইসেন্সকৃত সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন কি না তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সরকার মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

২০১৯ সাল থেকে, প্রায় ১ মিলিয়ন পিসিতে বৈধ ও নিরাপদ সফটওয়্যার ইনস্টল করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘লিগ্যালাইজ অ্যান্ড প্রোটেক্ট’ নামের আঞ্চলিক প্রচারভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে বিএসএ। অবৈধ সফটওয়্যারের ব্যবহার এখনও চালু থাকায় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিকে এ বিষয়ে সচেতন করতে এবং সফটওয়্যার কম্পায়েন্সের প্রচারে আঞ্চলিকভাবে এবং বিশ্বব্যাপী বিএসএ তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। ৩০ টিরও বেশি দেশে তাদের কার্যক্রম চালু রয়েছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত