মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জয় বাংলা ম্যারাথন 

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৯:০৩ পিএম

রাজধানীর হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জয় বাংলা ম্যারাথন-২০২৪’ হাফ ম্যারাথন। আগামী ৭ জুন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাথলেটিক্স এন্ড সাইক্লিং ক্লাবের আয়োজনে এ প্রতিযোগিত অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ম্যারাথনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। এই সময় ও হাফ ম্যারাথনের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ‘জয় বাংলা ম্যারাথন-২০২৪’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশনসহ প্রতিযোগিতার সব আপডেট (joybanglamarathon.com) পাওয়া যাবে। 

ম্যারাথন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান। পুরস্কার বিতরণ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বাংলাদেশি যেকোনো নাগরিক হাফ ম্যারাথন এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। মোট চারটি ক্যাটাগরিতে ৫ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আন্তর্জাতিক ম্যারাথনের সব নিয়ম মেনেই আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিযোগিতাটি ৭ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। 

এ তারিখটি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের জন্য বিখ্যাতভাবে স্মরণ করা হয়। ‘৭ মার্চের ভাষণ’ নামে পরিচিত এই ভাষণটি বাঙালি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে এবং স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন জোগাড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

‘জয় বাংলা’ শেস্নগান মুক্তিযুদ্ধে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তাই ৭ মার্চ ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে যাত্রার সূচনার প্রতীক এবং বাঙালি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের অন্বেষণে তাদের সাহস, সংকল্প এবং স্থিতিস্থাপকতার স্মারক হিসেবে কাজ করে। এর আগে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এখনও একটি নির্দিষ্ট পফেন্ট অব রেফারেন্স। দিনগুলোর তাৎপর্য স্মরণে রাখতে জয় বাংলা ম্যারাথন নামকরণ করা হয়েছে। এই ম্যারাথনের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে একটি সুস্থ ও সক্রিয় লাইফ স্টাইল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় ৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগীদের ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মধ্যে ২২ কিলোমিটির পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ১০ জনকে পুরস্কার প্রদানসহ অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে জার্সি, মেডেল ও সার্টিফিকেট। ম্যারাথনের সময পুরো ট্র্যাকজুড়ে দৌড়বিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একাধিক মেডিকেল টিম এবং হাইড্রেশন পয়েন্ট, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো নারী-পুরুষ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাথলেটিক্স ও সাইক্লিং ক্লাব প্রতি বছর ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনস, মিল ব্যারাক, গেন্ডারিয়া, ঢাকায় ৪০০/৮০০ মিটর দৌড়সহ কয়েকটি ইভেন্টের আয়োজন করত, যার অংশগ্রহণকারী ছিল পুলিশ সদস্যরা। আমরা বৃহৎ পরিসরে সাইক্লিং অথবা ম্যারাথন আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একাধিক মিটিং করি এবং কমিটি গঠন করি।’ ‘ম্যারাথন আয়োজন চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা এর বাস্তবায়নে অনেকদূর এগিয়েছি। সবার সহযোগিতায় এ মেগা ইভেন্টে বাস্তবায়ন করতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

‘জয় বাংলা ম্যারাথন-২০২৪’ এর সভাপতি এবং সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো একটি বড় ইভেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানটিতে ৫ হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ হওয়ায় আয়োজকদের কার্যপরিধি বিশাল। সময় কম হলেও আমরা তা করছি।’ 

‘ম্যারাথন অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার। এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত