বিদেশে পাঠানোর কথা বলে চেয়ারম্যানের টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৪১ পিএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কয়েকটি গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরতের দাবিতে তারই পরিষদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে ভুক্তভোগীরা।

আজ বুধবার (১৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা দেশ রূপান্তরকে জানান, কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়া প্রায় ৮-৯ মাস আগে বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে একই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে পাসপোর্ট নেন। তারা জানান, শুরুতে বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর কথা বললেও পরবর্তীতে বিভিন্ন খরচের নামে কারো থেকে ৫০ হাজার, কারো থেকে ১ লাখ, আবার কারো থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত টাকা আদায় করেন চেয়ারম্যান জামাল মিয়া।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এরপরে ৮-৯ মাস অতিবাহিত হলেও তারা বিদেশ যেতে না পারলে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন তাদেরই ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল করা এবং টাকা নেয়ার সময় ইমেইল মেসেজ দেখানো এসবই ছিল চেয়ারম্যানের প্রতারণার অংশ।

পরে ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবি করলে, তিনি আজ বুধবারের মধ্যে বিদেশ পাঠাতে না পারলে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। চেয়ারম্যানের দেওয়া নির্ধারিত সময়ে ভুক্তভোগীরা কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে টাকা চাইতে গেলে চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন চাঁন ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীদেরকে পরিষদের একটি কক্ষে আটক করে মারধর করেন। পরে সখীপুর থানার এসআই মান্নান ও সঙ্গীও পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন।

সখীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও তার ছেলে অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে।

চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, এ বিষয়ে যেহেতু এখনো তদন্ত চলছে তাই এখনই কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত