সিলেটের জৈন্তাপুরে বলাৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে গৃহশিক্ষককে খুন করেছিলেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এক তরুণ। হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পর গত সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন ইফতেখার রশিদ মাহি (২২)। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা যায়, ইফতেখার রশিদ মাহিকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়াতেন গৃহশিক্ষক মুক্তারুল হক। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে মাহিকে বলাৎকার করেন মুক্তারুল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মাহিকে বলাৎকার করে আসছিলেন তিনি। তরুণ বয়সে এসেও মাহিকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন ওই গৃহশিক্ষক। এতে রাজি না হওয়ায় মাহির ছোট বোনকে ধর্ষণের হুমকি দেন মুক্তারুল। এর প্রতিশোধ নিতেই মাথায় আঘাত করে গৃহশিক্ষক মুক্তারুলকে হত্যা করেন মাহি। নিহত মুক্তারুল হক জৈন্তাপুরের তেলীজুরী গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মাহি একই গ্রামের বাসিন্দা।
২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর সকালে জৈন্তাপুর উপজেলার তেলীজুরী এলাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মুক্তারুল হকের (৩৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা রহমত আলী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। জৈন্তাপুর থানা পুলিশ কিছুদিন তদন্তের পর তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই সিলেট জেলা।
পিবিআই জানায়, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর গত সোমবার অভিযান চালিয়ে ঢাকার মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার একটি পোশাক কারখানা থেকে মূল আসামি ইফতেখার রশিদ মাহিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মাহি পিবিআইকে জানিয়েছেন, মুক্তারুল তাকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়াতেন। তিনি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন তখন থেকে মুক্তারুল তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার শুরু করেন। পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিভিন্ন সময় বাধা দিলে তাকে ব্লেড দিয়ে দুই উরুতে অসংখ্য জখম করেন। অশালীন দৃশ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং স্কুলের পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে তাকে দীর্ঘ দিন বলাৎকার করে আসছিলেন গৃহশিক্ষক মুক্তারুল।
জিজ্ঞাসাবাদে মাহি আরও জানান, তরুণ বয়সে এসেও তাকে বলাৎকার করতে চাইলে তিনি বাধা দেন। এ সময় মুক্তারুল মাহির নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছোট বোনকে ধর্ষণের হুমকি দেন। সেটি সহ্য করতে না পেরে মুক্তারুলকে খুন করার পরিকল্পনা করেন মাহি। ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর অতীতের মতো মুক্তারুল মাহিকে তাদের বাড়ির পেছনে বলাৎকারের উদ্দেশে ডাকলে মাহি সন্ধ্যার পর সেখানে যান এবং সেখানে থাকা কাঠ দিয়ে মুক্তারুলের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ রাস্তার পাশের জমিতে টেনে নিয়ে ফেলে দেন। পরদিন তিনি রামপ্রসাদ গ্রামে তার নানা বাড়িতে চলে যান। এর কিছুদিন পর খালার বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন। এরপর আর এলাকায় আসেননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইর উপ—পরিদর্শক ঝলক মোহন্ত বলেন, ‘ঘটনার তদন্তভার পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়। গত সোমবার অভিযান চালিয়ে ঢাকার মালিবাগ চৌধুরী পাড়ার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে আসামি ইফতেখার রশিদ মাহিকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর মাহি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে রেখে উধাও স্বামী-শাশুড়ি-ননদ
বলিউডের যে নায়িকারা ধনী ব্যবসায়ীদের বিয়ে করেছেন
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কান উৎসবে বাংলাদেশি মডেল!
বাবাকে বাঁচাতে কিডনি বিক্রি করতে চান জবি শিক্ষার্থী