বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সর্বাধিকসংখ্যক কবিতা লিখে ‘পোয়েট অব বঙ্গবন্ধু’ খেতাব ও সম্মাননা পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘তারুণ্যের স্পর্ধিত উচ্চারণ’ শীর্ষক কাব্য সংকলন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই পদক কবির হাতে তুলে দেওয়া হয়। সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা ‘লোক’ ছিল এই অনুষ্ঠানের আয়োজক।
অনিকেত শামীম সম্পাদিত বঙ্গবন্ধুর ১০৪তম জন্মদিন উপলক্ষে ১০৪ জন তরুণ কবির কবিতা নিয়ে কাব্য-সংকলন ‘তারুণ্যের স্পর্ধিত উচ্চারণ’ প্রকাশিত হয়েছে। সংকলনভুক্ত ১০৪ তরুণ কবির মধ্যে থেকে ৪ জনকে প্রদান করা হয় ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্মাননা’। তারা হলেন- অতনু তিয়াস, আফরোজা সোমা, নীহার লিখন ও মাসুদ পথিক।
অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রতি প্রশংসাবচন পাঠ করেন সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। তিনি কবিকে উদ্দ্যশ্যে করে বলেন, ‘আপনি প্রথম হুলিয়া বাংলা কাব্যগ্রন্থে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির মহানায়ক হিসেবে আখ্যা দেন।’
অনুভূতি ব্যক্ত করে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে এত কবিতা লেখা হয়নি, যত কবিতা লেখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখতেই আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করি। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার কবি জীবনের জন্ম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লেখার জন্যই। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচি যখন পড়ে দেখলাম এটি দেশের মুক্তির জন্য আশীর্বাদ, তখন থেকেই আমার কবিতা লেখার শুরু। পোয়েট অব বঙ্গবন্ধু উপাধি পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
আয়োজনে ১০৪ তরুণ কবির বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা সংকলনের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কবি কামাল চৌধুরী, সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আনজীর লিটন এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। স্বাগত ভাষণ দেন কবি অনিকেত শামীম, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি নাসির আহমেদ এবং কবি শিহাব শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি হাসান মাহমুদ এবং সাদিয়া রশ্নি সূচনা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর কবি হিসেবে আখ্যা পেলেও আওয়ামী লীগ থেকে কোনো উপাধি না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তিনি বলেন, ‘একটি সাহিত্য পত্রিকা আমাকে পোয়েট অব বঙ্গবন্ধু খেতাব দিয়েছিল। আমি অত্যন্ত গৌরবান্বিত বোধ করছি। আমার মনে হয়েছে যে খেতাব আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া উচিত ছিল, সেই কাজটি একটি পত্রিকা দায়িত্ব পালন করেছে।’
