পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ দাবি

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ১০:১১ পিএম

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও এর অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করা এবং এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী।

তাদের অপর দাবিগুলো হলো- লাইন ক্রু লেভেল-১ পদে কর্মরতদের পাশাপাশি মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ও লাইন শ্রমিকদের চাকরি নিয়মিতকরণ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সমিতির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ও যাদের সাময়িক বরখাস্ত, বদলি করা হয়েছে তাদের দ্রুত আগের স্থানে পদায়ন করা।

এসব দাবি জানিয়ে রবিবার দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধানদের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদস্য (সমিতি ব্যবস্থাপনা) বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে নিজেদের দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি আরইবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের বৈষম্যগুলো তুলে ধরেন তারা।

দাবি আদায়ের জন্য মানববন্ধন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে কর্মবিরতি পালন, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্নজনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মূল প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী কর্মকর্তা, চাকরির যোগ্যতা এক হওয়া সত্ত্বেও আরইবি’র সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। আরইবির কিছু কর্মকর্তা নিজেদের সুবিধার জন্য বছরের পর বছর ধরে এই বৈষম্য জিইয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সমিতির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা ভাতা ওই বছরের জুলাই থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা আরইবি নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছে। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে তা আরও ৬ মাস পর কার্যকর করা হয়। একইভাবে ২০১৫ সালের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলও কার্যকর করা হয় ৬ মাস পর। মাত্র তিন বছরে আরইবির নির্বাহী পরিচালক বা সমমান পদের একজন পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি পেয়ে যান। আর একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির  উপমহাব্যবস্থাপক থেকে মহাব্যবস্থাপক পদ পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১২ থেকে ১৪ বছর। এভাবে অন্যান্য পদে পদোন্নতি পেয়ে সময় লাগে অনেক বেশি। 

মাঠ পর্যায়ে তেমন একটা কাজ না করেও পর্যায়ক্রমে আরইবির কর্মকর্তারা সবাই বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেও যারা মূল কাজ করেন সেই সমিতির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর্মকর্তা বিদেশে প্রশিক্ষণ পান। এছাড়া আরইবি এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে এই ছুটি একদিন।

এমন নানা বৈষম্যের পাশাপাশি বার্ষিক বেতন প্রবৃদ্ধি, চিকিৎসা ভাতা, প্রশিক্ষণ সম্মানি, অবসরকালীন সুবিধাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলেছেন।

নিজেদের ন্যায্য দাবি জানিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোনো সমাধান না করে উল্টো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, নিজেদের বিভিন্ন ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আরইবিকে অবহিত করা হলেও এর কোনো সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করে আরইবি। এতে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ১০ মে বৈঠক করেন। সেখানে যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত