২০ মে কেন মৌমাছি দিবস জানেন কী?

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৬:১১ পিএম

‘মৌমাছি, মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি/ দাঁড়াও না একবার ভাই।’ নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের এই কবিতাটি ছোটবেলায় পড়ে নাই এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর। সেই মৌমাছি দিবস আজ। তবে ২০ মে কেন মৌমাছি দিবস পালন করা হয়, এর রহস্য কী? মূলত ২০১৮ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতিবছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালিত হয়ে আসছে। 

আমাদের পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, বাসযোগ্য করে তোলার জন্য মৌমাছি পরিবেশে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর আজকের এই দিনটি পালিত হয়। বাস্তুতন্ত্রের সবচেয়ে পরিশ্রমী প্রাণী হিসেবে মৌমাছি অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দরকার। মৌমাছি, প্রজাপতির মতো পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গ রক্ষার গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য ও পরিবেশে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য এই বছর পালিত হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবস

নগরায়ণ, শিল্পায়ন, পরিবেশ ধ্বংসের কারণে আজ মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী যেমন প্রজাপতি, বাদুড় এবং হামিংবার্ড বিলুপ্তির পথে। এই সব পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গ খাদ্যশস্য সহ একাধিক উদ্ভিদের প্রজননে সহায়ক। তাই পরিবেশে এই সব পরাগ বহনকারী কীটপতঙ্গের স্থায়িত বজায় রাখার জন্য পালিত হয় এই দিনটি।

জাতিসংঘের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে প্রতি বছর ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস পালিত হবে। কিন্তু ২০ মে-ই কেন? এর পিছনেও রয়েছে একটি কারণ। ২০ মে হল অ্যান্টন জনসার জন্মদিন। অ্যান্টন জনসা হলেন স্লোভেনীয় মৌমাছি পালক। অ্যান্টন জনসা আধুনিক মৌমাছি পালনের জনকও বলা হয়।

২০১৬ সালে স্লোভেনিয়া সরকার ২০ মে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসাবে উদযাপনের ধারণাটি প্রস্তাব করেছিল এবং এটি ২০১৭ সালে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।

বিশ্বের বেশিরভাগ বন্য ফুলের গাছ প্রাণীর পরাগায়নের উপর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে। শুধু ফুলের গাছ নয়, খাদ্যশস্যের ৭৫ শতাংশেরও বেশি এবং বিশ্বব্যাপী কৃষি জমির ৩৫ শতাংশও পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল।

পরাগায়নকারীরা শুধুমাত্র বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখে না বরং তারা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অনেক উদ্ভিদের বেঁচে থাকা ও প্রজনন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মৌমাছিরা বনের পুনর্জন্মকে সাপোর্ট করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে স্থায়িত্ব এবং অভিযোজন প্রচার করে।

মৌমাছি সম্পর্কে ৫টি আকর্ষণীয় তথ্য:

১. সাতটি স্বীকৃত জৈবিক পরিবারে মৌমাছির ১৬,০০০ টিরও বেশি প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে।

২. মৌমাছির কিছু প্রজাতি- যার মধ্যে ভ্রমর এবং অন্য প্রজাতির মৌমাছিরা সামাজিকভাবে উপনিবেশে বাস করে যেখানে বেশিরভাগ প্রজাতি একা থাকে।

৩. অ্যান্টার্কটিকা ব্যতীত প্রতিটি মহাদেশে মৌমাছি পাওয়া যায়, পৃথিবীর যে যে স্থানে পোকামাকড়-পরাগায়িত ফুলের গাছ রয়েছে।

৪. মৌমাছি পরাগায়ন পরিবেশগত এবং বাণিজ্যিকভাবে উভয়ক্ষেত্রেই অত্যাবশ্যক এবং বন্য মৌমাছির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে, মধু মৌমাছির বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হাইভগুলির দ্বারা পরাগায়নের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫. প্রাচীনযুগে গ্রীস এবং মিশরের সময়কাল থেকে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মধ্যে মৌমাছি পালনের প্রচলন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত