মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা এখন আর জাতীয় দলের কেউ নন। খেলা পুরোপুরি না ছাড়লেও জাতীয় দল নিয়ে সেভাবে মাথা ঘামান না। খেলার চেয়ে এখন রাজনীতি নিয়েই বেশি ব্যস্ত নড়াইল-২ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য মাশরাফী। তবে সোমবার সংবাদমাধ্যমের কাছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভাবনা জানাতে হয়েছে তাকে। বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কাবাডি ফেডারেশনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেট নিয়ে কথা না বললেও পরে নিজের অঙ্গন ঠিকই এসেছে বক্তব্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে আগামী ২ জুন শুরু হতে যাওয়া ছোট সংস্করণের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরের ধাপে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কাকে হারানোর বিকল্প নেই। আর গ্রুপের অপর দুই দল নেপাল ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারের কথা ভাবাই ঠিক নয় মাশরাফীর মতে।
যতই রাজনীতি করুন, ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার জো নেই মাশরাফীর। বিশ্বকাপে দেশের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তো জেতা উচিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে একবার সিরিজ জিতে এসেছে বাংলাদেশ। যদিও সেটা ওয়ানডে ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কার যেকোনো একটা জিততে হবে। আশা করি এদের বিপক্ষে ভালো করবে।’ বাংলাদেশকে প্রথমেই এই দুই প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর নেপাল ও ডাচদের বিপক্ষে ম্যাচ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। শেষ দুই ম্যাচ নিয়ে মাশরাফী বলেন, ‘ওদের (নেপাল-নেদারল্যান্ডস) বিপক্ষে যদি হারার কথা চিন্তা করেন, তাহলে তো কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার একটা জিতে আর ওদের হারিয়ে...। (তা ছাড়া) দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার দুটোই নয় কেন?’
পরের রাউন্ডে পাখির চোখ করা মাশরাফীর অবশ্য ভাবনাটা এখনই এর বেশি নিতে চাইছেন না, ‘(বিশ্বকাপে) কত দূর যেতে পারবে বলতে পারব না। তবে ভালো কিছু করুক এটাই আশা করছি। আমি অবশ্যই চাইব বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসুক, বাস্তবিকভাবে ভাবতে হবে কেমন খেলছে ওখানে, উইকেট কেমন, কন্ডিশন কেমন। দল কেমন ছন্দে আছে, খেলোয়াড়রা কেমন ফর্মে আছে। যদিও প্রথম রাউন্ড পার করতে পারলে একটা ধারণা হবে।’ বাংলাদেশের অন্যতম আস্থার নাম সাকিব আল হাসান। বিশ^কাপের মঞ্চে দলের সাফল্য-ব্যর্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করে তার ওপর। মাশরাফীও আশায় আছেন সাকিবের আরেকবার জ¦লে ওঠার, ‘সাকিবকে নিয়ে আলাদা করে তো বলার কিছু নেই। সব সময় বেস্ট পারফরমার, বেস্ট পারফরম্যান্স আশা করব ওর কাছ থেকে।’
বিশ্বকাপ স্কোয়াড কেমন হলো এমন প্রশ্নে মাশরাফী অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, দলে কে আছে, কে নেই এটা তার খুব বেশি জানা নেই। তবে যে-ই থাকুক দল হিসেবে বাংলাদেশ ভালো করবে এটাই প্রত্যাশা মাশরাফীর, ‘(স্কোয়াড) দেখিনি, জানিও না আমি। তবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ আশা করছে যে বাংলাদেশ ভালো করবে, যেখানেই যায়, যেভাবে যায়। আমার প্রত্যাশা অবশ্যই ভিন্ন কিছু হবে না।’
ক্রিকেটের পাশাপাশি চলতি বছর প্যারিসে বসতে যাওয়া অলিম্পিক গেমস নিয়েও কথা বলেছেন সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক মাশরাফী। অলিম্পিকের মাহাত্ম্য এ দেশের মানুষ বোঝে না, এ রকম আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। নিজে ক্রিকেট খেললেও অলিম্পিক স্বর্ণপদক তার কাছে একটি ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড়, ‘বিশ্বে সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হলো অলিম্পিক। আমরা তো অলিম্পিকে হিটেই টিকছি না। এখন কত ধাপ পিছিয়ে আছি। হিটে টিকলে হয়তো তিনটি পদকের একটি পাওয়ার আশা থাকে। তবে এ কাজটা অনেক কঠিন। পাশের দেশ ভারত এখন ব্রোঞ্জ পাচ্ছে। রুপা পাওয়া শুরু করেছে। এমনকি সোনাও পেয়েছে। আমরা যদি অলিম্পিকে পদক পাওয়ার অবস্থায় যেতে পারি, তাহলে সারা দুনিয়ায় বিরাট খবর হবে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া জিতেছে। অথচ সারা পৃথিবীতে এর নাম হয় না। ক্রিকেট বিশ্বকাপ এত বড় কিছু না। ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশে জিতলে হয়তো অনেক কিছু হবে। তবে অলিম্পিক পদক জিতলে, সেটার নাম সারা বিশ্বে ছড়াবে।’
ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিকল্প নেই জানিয়ে কাবাডি উদাহরণ টানলেন মাশরাফী, ‘খেলা এমন একটা জিনিস, যেখানে বিনিয়োগ প্রয়োজন। খেলা এমনি এমনি হবে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্পনসরশিপ কত আছে দেখেন। অন্য ফেডারেশনের এ অবস্থায় নাই। খুব স্বাভাবিক ব্যাপার যে ইনভেস্টমেন্ট যত থাকবে, তত প্লেয়ারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে, তত তৃণমূল থেকে প্লেয়ার বাড়বে। কাবাডি এই একটা টুর্নামেন্টে (বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি) এখানে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। এর মানে এটা উঠবে ধীরে ধীরে। আমরা জানি কাবাডি শেষ তিনবার এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ কারণে ওরা উন্নতি করছে।’
