সালাহর শেষ সুযোগ বিশ্বমঞ্চে খরা কাটানোর মিশনে মিসর

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০১:৫০ এএম

বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের রেকর্ড সাত বারের চ্যাম্পিয়নদের যদি একনামে ডাকতে হয়, তবে বলতে হবে ‘দ্য ফারাওস’। তবে মহাদেশীয় ফুটবলে ফারাওদের যতটা দাপট, বিশ্বকাপের আঙিনায় তাদের ইতিহাস ততটাই মলিন আর আক্ষেপে মোড়ানো। ১৯৯০ সালের পর থেকে দীর্ঘ ৩৬ বছরে মিসর মাত্র একবারই (২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ) বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে পেরেছিল, যেখানে কোনো পয়েন্ট না পেয়েই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। অবাক করা তথ্য হলো, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এ পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের মুখ দেখেনি প্রাচীন সভ্যতার এই দেশটি। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সিএএফ বাছাইপর্ব দাপটের সঙ্গে পার করে সেই জয়খরা কাটানো এবং নকআউট পর্বের নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্যেই উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রাখছে দলটি।

মিসরের ফুটবল ইতিহাসে অবশ্য একটি অদ্ভুত ট্র্যাজিক গল্পও রয়েছে। ১৯৩০ সালে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল মিসর। কিন্তু মার্সেই থেকে দক্ষিণ আমেরিকা যাওয়ার জাহাজটি ফরাসি উপকূলের এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে মিস হয়ে যায় তাদের! ফলে সেবার আর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া হয়নি ফারাওদের। সেই প্রাচীন ইতিহাস পেছনে ফেলে এবার আধুনিক ফুটবলের রাজা মোহামেদ সালাহর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের চেনাতে মরিয়া মিসর।

হোসাম হাসানের রণকৌশল

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের ডাগআউটের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় দলটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসানের হাতে। কোচ হিসেবে হোসামের নিযুক্তি দলটির জন্য এক বড় আবেগের জায়গা, কারণ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯০ বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে তিনটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সী এই কোচের ফুটবল দর্শন মূলত রক্ষণভাগ নিরেট রেখে প্রতিআক্রমণে ওঠার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে দলের বর্তমান ফরোয়ার্ড লাইনের বিধ্বংসী ফর্ম বিবেচনায় হাসান এবার বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাতেই পছন্দ করছেন। তার প্রধান লক্ষ্য, দলের দীর্ঘদিনের জয়খরা কাটিয়ে দলকে প্রথমবার গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার করানো।

মূল ভরসা : মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ

মিসরের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ও প্রাণভোমরা লিভারপুলের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। জাতীয় দলের হয়ে ৬৩ গোল করা এই তারকা তার নিখুঁত ফিনিশিং, গতি ও অসাধারণ ড্রিবলিং দিয়ে যেকোনো দলের রক্ষণভাগ চুরমার করে দিতে পারেন। বাছাইপর্বেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯টি গোল এসেছে তার পা থেকেই। কোচ হোসাম হাসানের ৬৯ গোলের অলটাইম রেকর্ড ভাঙার হাতছানিও রয়েছে সালাহর সামনে।

আক্রমণভাগে সালাহর প্রধান সহযোগী ও এই মুহূর্তে দলের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড ম্যানচেস্টার সিটির তারকা উইঙ্গার ওমর মারমুশ। উইং ধরে তার বিদ্যুৎগতির ওভারল্যাপ এবং বক্সে ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিং মিসরের আক্রমণের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আল আহলির অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ত্রেজেগে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম মূল হাতিয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত