কেডিএর কাছে কেসিসির পাওনা সাড়ে ১৬ কোটি

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৩:২৬ এএম

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কাছে ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮ হাজার ৭২৮ টাকার পৌরকর বকেয়া পাবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। বিল ও পত্র প্রদান, সভার আয়োজন করেও বকেয়া পরিশোধে সাড়া মেলেনি। তাই বকেয়া পৌরকর পরিশোধে এবার চিঠি দিয়ে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ে কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংস্থার অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও সার্টিফিকেট মোকদ্দমাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬১ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। সিটি করপোরেশন এলাকায় কেডিএ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৬৫ সাল থেকে সংস্থার ১৫টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮ হাজার ৭২৮ টাকার পৌরকর বকেয়া রয়েছে। স্থাপনাগুলো হলো, কেডিএ প্রশাসনিক ভবন, কেডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, স্টাফ কোয়ার্টার, চেয়ারম্যান বাংলো, বিজয়গাথা কমিউনিটি সেন্টার, কল্পতরু মার্কেট, রূপসা নতুনবাজার মার্কেট, নিউমার্কেট, নিউমার্কেট মাছ ও কাঁচাবাজার, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও গ্রিলহাউজ। এসব হোল্ডিংয়ের বকেয়া পৌরকর আদায়ে অনেকবার বিল প্রদান, পত্র প্রদান ও সভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু কেডিএ কর পরিশোধ করেনি।

করপোরেশনের কর আদায় শাখার প্রধান তপন কুমার নন্দী বলেন, সিটি করপোরেশন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। রাজস্ব খাত থেকে অর্জিত আয় দিয়ে মহানগরীর রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মেরামত, সড়কবাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধনসহ বহুবিধ সেবামূলক কাজ করতে হয়। রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ হোল্ডিং কর খাতে অর্জিত হয়ে থাকে। কিন্তু কর প্রদান থেকে বিরত থাকলে এসব কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সানজিদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেডিএকে চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করতে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গত ২ মে এই চিঠি দেওয়া হয়। করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌরকর পরিশোধে এবার ব্যর্থ হলে সিটি করপোরেশনগুলোর করবিধি-১৯৮৬-এর ধারা ১১ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকসহ সরকারি পাওনা আদায় আইন-১৯১৩-এর বিধান অনুযায়ী সার্টিফিকেট মোকদ্দমা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেডিএ চেয়ারম্যান এসএম মিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৯৬১ সালের কেডিএর অধ্যাদেশের ৪৭ ধারায় উল্লেখ আছে, করপোরেশনের ধার্যকৃত পৌর করের শতকরা ২ ভাগ কেডিএকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। সেই অনুযায়ী উভয় প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়-দেনা প্রায় সমান সমান এসে দাঁড়াবে। তারপরও করপোরেশন বকেয়া পৌর কর পরিশোধে চিঠি দিয়েছে। চিঠি পেয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সুপারিশমালা দিলে বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ইতিমধ্যে করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গেও কথা হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা অনুসরণ করে উভয়ই বকেয়া পরিশোধে একমত হয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত