সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাংলাদেশকে হারিয়ে রোহিতের সাবেক সতীর্থ হারমিত

‘হতে পারে তারা আমাদের গুরুত্ব দেয়নি’

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০১:৪০ পিএম

হিউস্টনে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারানোতে নায়ক বনে যান যুক্তরাষ্ট্রের হারমিত সিং। ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাচ জিতিয়ে কাল সংবাদ সম্মেলনে হারমিত যা বলেছেন, তাতে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, সেটাই ফুটে উঠেছে। শেষ ওভারে ২০ রান কিংবা শেষ চার ওভারে ৫০ রান—সব সমীকরণ মেলানোর সংকল্প নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন হারমিত।

গতকাল হারমিত যখন উইকেটে আসেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের দরকার ছিল ৩১ বলে ৬০ রান। এরপর শেষ ৪ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান। তখনো মোস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভার বাকি। নিঃসন্দেহে কাজটা কঠিন। হারমিত এই কঠিন কাজ করেছেন ডেথ ওভারে বাংলাদেশের ‘কঠিনতম’ বোলার মোস্তাফিজকে টানা দুই ছক্কা মেরে।

বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার অবশ্য বাংলাদেশের করা ১৫৩ রান ১৮তম ওভারেই তাড়া করতে চেয়েছিলেন। ম্যাচসেরা হারমিত জয়ের পর বলেছেন, ‘উইকেট যেমন ছিল, তাতে এই রান ১৮তম ওভারে তাড়া করতে পারব বলে ভরসা ছিল। আমরা এমন ধীরগতির উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত। বাংলাদেশিদের জন্য হয়তো এটা কঠিন মনে হয়েছে, যে কারণে তারা একটু ধীরে এগিয়েছে। ব্যাটসম্যানদের প্রতি সম্মান জানাই, তারাই আমাদের লড়াইয়ে রেখেছে। যখন আমাদের শেষ ৪ ওভারে ৫০ রান লাগত, তখনো এই রান তাড়া করতে পারব বলে নিজের প্রতি ভরসা ছিল।’

হারমিত যোগ করেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মোস্তাফিজ বাতাসের বিপরীতে বোলিং করবেন। কিন্তু যখন ওকে দেখেছি বাতাসের দিক থেকে বোলিং করতে, তখন ভেবেছি, অন্য প্রান্ত থেকে কোনো ওভারে ২০ রান নেওয়ার সুযোগ আছে আমাদের। হতে পারে তারা আমাদের গুরুত্ব দেয়নি, অথবা কী হতে পারে, এটা আমি জানি না। তবে মোস্তাফিজের ৪ ওভার শেষ করে দেওয়ায় আমরা শেষ ওভারে ২০ রানও নিতে পারব—এমন বিশ্বাস ছিল আমাদের।’

যুক্তরাষ্ট্র দলের আরও অনেকের মতন হারমিতও ভারতীয় অভিবাসী। মুম্বাইতে জন্ম নেওয়া ৩১ পেরুনো ক্রিকেটার ভারতের হয়ে খেলেছেন ২০১০ ও ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ২০১০ সালে তার সতীর্থ ছিলেন লোকেশ রাহুল মায়াঙ্ক আগারওয়ালরা। ২০১২ সালে উন্মুক্ত চাঁদের নেতৃত্বাধীন চ্যাম্পিয়ন দলেও ছিলেন তিনি।

মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন রঞ্জি ট্রফি। শেষ দিকে মুম্বাইতে জায়গা না পেয়ে খেলেন ত্রিপুরার হয়ে। ২০১২ সালে মুম্বাইয়ের হয়ে প্রথম শ্রেণীর অভিষেকে ওয়াসিম জাফর, রোহিত শর্মা, আজিঙ্কা রাহানে, অজিত আগারকারদের সতীর্থ হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি। মূলত বাঁহাতি স্পিনের সঙ্গে টুকটাক ব্যাটিং পারা হারমিতের প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ার আটকে আছে ৩১ ম্যাচে, যাতে ৮৭ উইকেট আর ৭৩৩ রান তার।

আইপিএলেও খেলেছিলেন হারমিত। ২০১৩ সালের আসরে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে পারেন স্রেফ এক ম্যাচ। রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে পান ১ উইকেট।

২০২০ সালের পর ভারতীয় ক্রিকেটে ক্রমেই সরু হয়ে আসে হারমিতের পথ। নতুন পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে সেখানকার নাগরিকত্ব নেন তিনি। তিন বছর টানা বসবাসের শর্ত পূরণ করে আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামার অনুমতিও পান। এবার বাংলাদেশকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিখ্যাত জয়ের নায়ক বনে গেলেন বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার। মূল কাজটা করলেন মারকাটারি ব্যাটিং দিয়েই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত