জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার কারণে নদীর নাব্যতা হারিয়ে জেগে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। পানির স্তর বছরে গড়ে স্থানভেদে ২ থেকে ৩ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এই অঞ্চল সম্পূর্ণ মরুভূমিতে পরিণত হবে।
আজ বুধবার আন্তর্জাতিক জীব বৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ আয়োজিত আলোচনাসভায় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা একথা বলেন।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একতরফা পদ্মার পানি প্রত্যাহারের ফলে বরেন্দ্র এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে। ভাটির দেশ হিসেবে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় আমাদের দেশে পানি সংকট আরো ঘনিভূত হচ্ছে। নৌ চলাচল, সেচ ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। উত্তরাঞ্চলের নদীসমূহ শুস্ক বালুচরে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রায় ১৪০টি নদ-নদী এখন মৃত প্রায়। দেশের প্রায় ১৩টি নদীর অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এসব নদী।
বক্তারা আরও বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছে। এ কারণে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার আমুল পরিবর্তন ঘটছে। গড় তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়েছে যেকোনও মৌসুমের ক্ষেত্রে, বৃষ্টিপাতের ধরন ও সময় বদলে গেছে। সাম্প্রতিক কালে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, পাহাড় ধসের বর্ধিত আনাগোনা ও প্রচণ্ডতায় বাংলাদেশের জনজীবন, কৃষি, ভৌত অবকাঠামো অহরহই বিপর্যস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় দেশে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নদ-নদী দখল-ভরাট-দূষণ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, দারিদ্র, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পানি ও বায়ু দূষণ, শিল্পকারখানার দূষণ, মাএাতিরিক্ত ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার, ভ’গর্ভস্থ পানির অত্যাধিক উত্তোলনে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ বিপর্যস্ত।
পরিজার সভাপতি মো. আবদুস সোবহান বলেন, ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। এবছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জীববৈচিত্র্য পরিকল্পনার অংশ হোন’ জীববৈচিত্র্য আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমাদের বায়ু নিঃশ্বাসযোগ্য রাখার পাশাপাশি, জীববৈচিত্র্য আমাদের খাদ্য, পানি সরবরাহ, ওষুধ, পোষাক পরিচ্ছদ, আশ্রয়স্থলের যোগান দিচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদার ৮০ শতাংশ আসে জৈব সম্পদ থেকে। মানবতার ভাগ্য, কল্যাণ সুদৃঢ়ভাবে জৈব বৈচিত্র্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান বিশ্বে সকল প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষেণের মাধ্যমে সকল প্রাণীর খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা সম্ভব।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, আমরা আমাদের প্রকৃতি পরিবেশ ও জলবায়ুকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে এসেছি। প্রাণ প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনও উন্নয়ন পরিকল্পনা টেকসই হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী যে প্রভাব সেখানে আমাদের আরও প্রাণ ও প্রকৃতি নির্ভর পরিকল্পনার কোনও বিকল্প নেই। কিছু হলেই আমরা যেখাবে গাছ হত্যা করি, বন উজাড় করি তা অদূর ভবিষৎ এ আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করবে।
পরিজার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমি হ্রাস, নদী-খাল-বিল-হাওর দখল-ভরাট-দূষণ, বনাঞ্চল দখল-হ্রাস, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা, পানি ও বায়ু দূষণের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁর করানো কোনোভাবেই সমীচীন নয়। উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অন্যের সম্পূরক, পরিপূরক। পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হলে তা টেকসই হবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য আজ হারিয়ে যাচ্ছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
কে এই এমপি আনার, তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কেন?
বন্ধু রাষ্ট্রে গিয়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের তো জীবন নাশ হয়নি
পরাজিত প্রার্থীর কর্মীদের হামলায় চেয়ারম্যানের ২ কর্মী আহত