মহিলা সমিতিতে আজ 

মঞ্চে উঠছে নজরুল সৈয়দের নাটক ‘আফসোসের শহর’

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৮:২৪ এএম

উর্দু ছোটগল্পের প্রসঙ্গ এলেই আসে মান্টোর নাম। কিন্তু কেউ কেউ কথাসাহিত্যিক ইনতেজার হুসেইনকে মান্টোর চেয়েও শক্তিশালী গল্পকার মনে করেন। মান্টোর গল্প জীবনের নগ্ন উন্মোচন। ইনতেজার পৌরাণিক আখ্যান আর গভীর দর্শনে পাঠককে আঁকড়ে ধরেন। সোজাসাপ্টা গল্প না বলে প্রতীক সৃষ্টি করে কাহিনির বিস্তার ঘটান। বোদ্ধা পাঠকদের তো বটেই বর্তমান দুনিয়ায় এই ধারার গল্প লেখকদেরও বিস্মিত করে। ইনতেজারকে বলা হয় লেখকদের লেখক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের এই কথাসাহিত্যিক আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও লিখেছেন একাধিক অসাধারণ ছোটগল্প। তার বিখ্যাত উপন্যাস বাস্তি-এর একটি বড় অংশ জুড়েই রয়েছে সাতচল্লিশ, উনসত্তর এবং একাত্তরের দিল্লি, ঢাকা এবং লাহোর। 

তারই লেখা অসামান্য গল্প আফসোসের শহরে ভর করে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় মঞ্চে নাটকটি আনছে  ‘সৃজন-নাট’। নাটকটি রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন নজরুল সৈয়দ।  সালেহ ফুয়াদের বাংলা অনুবাদ থেকে মূল গল্পটা রেখে এটিকে কাব্যনাট্যে রূপ দিয়েছেন তিনি। আফসোসের শহর গল্পটি মূলত তিন মৃত বা জীবিত ব্যক্তির সংলাপধর্মী গল্প। এই তিন ব্যক্তিও প্রতীক- হয়তোবা তারা মানুষ নয়; তিনটি শহর বা দেশ। সাতচল্লিশের আগে তারা একই ছিল। তারপর দিল্লি, লাহোর আর ঢাকায় বিভক্ত। এমনসব খণ্ড খণ্ড দৃশ্য আর দার্শনিক সংলাপ আছে এ নাটকে যে, মন আছে এমন মানুষের অস্তিত্বকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম। 

নাটকটির প্রচারপত্রের ফ্ল্যাপে লেখা হয়েছে, যুদ্ধ আর ধর্ষণের রক্তস্নাত পৃথিবীতে মানুষ যখন নিরবতার সংস্কৃতিকে নির্ভর করে বালিতে মুখ গুঁজে থেকে আর ভালো থাকার অভিনয় করে সভ্যতার তারিফ গায়, তখন নিজেদেরকে যে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করানো প্রয়োজন বলে সৃজন-নাট মনে করে, সেই প্রশ্নের নাটক ‘আফসোসের শহর’। যে অলীক পৃথিবী মানুষের স্বপ্নের আঙিনায় এখন আর উঁকিও দেয় না, সেই স্বপ্নের পৃথিবী সন্ধানের নাটক ‘আফসোসের শহর’। জাতি আর সম্প্রদায়গত এই সংঘাতের কালে মানুষ কোনো কারন ছাড়াই নির্দ্বিধায় হত্যা করে ফেলতে পারছে অপর মানুষকে, মেতে উঠতে পারছে অমানবিক পৈশাচিকতায়, সেই ভয়াবহ অনুভূতিহীন জগতে মানুষ অবলীলায় নিজেকে নিয়ে যেতে সক্ষম হতে পেরেছে। যখন মানুষ পত্রিকায় প্রতিদিন সকালে লাশ, নির্যাতন আর ধ্বংসের খবর পড়তে পড়তে নির্বিকারচিত্তে খেতে পারছে সানি-সাইড-আপ ডিমের কুসুমটা অব্দি আর পারফিউম সাঁটিয়ে ঢেকে নিতে পারছে সবটুকু দুর্গন্ধ, যখন এমনকি আমাদের শিক্ষায়তনগুলোতেও যৌন নির্যাতনের হিড়িক বাড়ছে, তখন যে নাটক দর্শকের সামনে মঞ্চায়নটা কর্তব্য মনে হয়, ‘আফসোসের শহর’ সেই নাটক। তাই ‘সৃজন নাট’ এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা ‘আফসোসের শহর’। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ মে ২০২৪ ) সন্ধ্যে ৭টায় বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে হবে এই নাটকের প্রদর্শনী। নজরুল সৈয়দ বলছিলেন ‘এ নাটক দেখে যদি দর্শক বিনোদিত হয়, সেক্ষেত্রে নাটক সম্পূর্ণই ব্যর্থ। যদি খোরাক দেয় কোনো চিন্তার, যদি নিজেকে নতুন করে ভাবতে সহায়তা করে, তা-ই ‘আফসোসের শহর’এর সার্থকতা। এই নাটক অপ্রাপ্তমনস্ক ও বিনোদনপ্রত্যাশীদের জন্য ক্ষতিকর।’

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বন্ধন সাহা, পলক চক্রবর্তী, রিফাত আরা জুঁই, মিডিয়া আশাক্রা ও সুমন আহমেদ রানা। নির্দেশনায় সহযোগিতা করেছেন সমর কান্তি সিংহ। আলোক পরিকল্পনায় অম্লান বিশ্বাস। মঞ্চ ও সঙ্গীত পরিকল্পনায় নজরুল সৈয়দ। পোশাক পরিকল্পনায় মিডিয়া আশাক্রা। চলন ও দেহবিন্যাস পরিকল্পনায় বন্ধন সাহা। সময় আছে? বন্ধু স্বজনদের নিয়ে গিয়ে দেখে আসতে পারেন আপনার কথা হয়ে উঠতে চাওয়া নাটক ‘আফসোসের শহর’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত